Death by trampling amid a crowd at the Chorbagan Puja pandal
,কলকাতা: মহাষষ্ঠীর রেশ কাটতে না কাটতেই সপ্তমী সন্ধ্যায় কলকাতার এক অন্যতম সেরা পুজো মণ্ডপে ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড় এবং বৃষ্টির জেরে হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩ জন মহিলা, ৩ জন পুরুষ ও ১টি শিশু রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। সরকারি ভাবে এখনো এ বিষয়ে জানাানো হয়নি। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আকস্মিক এই তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যে পুজোর আনন্দ বিষাদে বদলে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই দ্রুত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি। তাঁর সঙ্গে হাসপাতালে উপস্থিত হন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষকে থানায় তলব করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
এ দিন সন্ধ্যা থেকেই উত্তর ও মধ্য কলকাতায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তায় তীব্র যানজটের পাশাপাশি চোরবাগান মণ্ডপের বাইরেও মানুষের ঢল নামে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঝেঁপে বৃষ্টি নামলে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ হুড়মুড়িয়ে মণ্ডপের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেই সময় প্রবল ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। চোরবাগানের এ বারের পুজো মণ্ডপের থিম ছিল ‘অরব’ বা ‘বিয়ন্ড সাউন্ড’। মণ্ডপের ভেতরে ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরার জন্য একটি এলিভেটেড করিডোর বা বৃত্তাকার পথ রয়েছে। সেই পথেই অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে মানুষ একে অপরের ওপর পড়ে যান। এর মাঝেই ভিড়ের মধ্যে কেউ ‘প্যান্ডেলে আগুন লেগেছে’ বলে চিৎকার করে ওঠেন বলে অভিযোগ, যার ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ও ত্রাসময় হয়ে ওঠে এবং পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ঘটনাস্থলে যথাসময়ে পুলিশ ও রক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন না বলে একাংশ দর্শনার্থী অভিযোগ তুললেও, কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (গোয়েন্দা) কুণাল আগারওয়াল জানান, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে দ্রুত ফায়ার ব্রিগেড, কলকাতা পুলিশ, ডিএমজি (DMG) টিম এবং মেডিকেল টিম সহ অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। পুলিশি তৎপরতায় আহতদের উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে ওই পুজো মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পুজোর আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় লালবাজারের পক্ষ থেকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর (১৮০০৩৪৫৫৬৭৮) এবং একটি ল্যান্ডলাইন নম্বর (০৩৩ ২২১৪ ১৩১০) চালু করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে এই নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করা যাবে। ঘটনার জেরে গোটা চোরবাগান চত্বরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
