West Bengal assembly elections were not legally valid: Quraishi
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এস. ওয়াই. কুরেশি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। কলকাতার এক স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দ্য হিন্দুর রিপোর্ট অনুসারে, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর, ২০২৬) কলকাতায় হাশিম আবদুল হালিম মেমোরিয়াল লেকচারে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই বিস্ফোরক অভিযোগগুলো করেন।
এস. ওয়াই. কুরেশির প্রধান অভিযোগসমূহ:
- আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন: দ্য হিন্দুর রিপোর্ট অনুসারে, প্রাক্তন সিইসি এস. ওয়াই. কুরেশি প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন আইনগতভাবে বৈধ ছিল না। তাঁর মতে, যেসব এলাকায় সন্দেহজনকভাবে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেগুলির পুনর্তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং প্রয়োজনে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা উচিত। তিনি জানান যে বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে এবং তিনি সঠিক রায়ের অপেক্ষায় আছেন।
- নির্বাচন কমিশনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়ম: দ্য হিন্দুর রিপোর্ট অনুসারে, কুরেশি জোর দিয়ে বলেছেন যে “সিইসি মানেই নির্বাচন কমিশন একা নন।” নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত হওয়া উচিত, অথবা কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তা হওয়া দরকার। সিইসির একতরফা সিদ্ধান্ত কখনোই চূড়ান্ত হতে পারে না। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান যে, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রায় ১৪টি বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
- ভোটার কার্ড ও নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক: দ্য হিন্দুর রিপোর্ট অনুসারে, ভোটারদের অধিকার নিয়ে বলতে গিয়ে কুরেশি জানান যে ভোটারদের নিজেদের অধিকারের জন্য ভিক্ষা করতে হয় না। অতীতে নিয়ম ছিল যে ভোটার কার্ড সরাসরি মানুষের বাড়ি পৌঁছে যেত। কিন্তু এবারের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ছিল না এবং এর মাধ্যমে পেছনের দরজা দিয়ে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শাসক দলের প্রতিক্রিয়া:
দ্য হিন্দুর রিপোর্ট অনুসারে, প্রাক্তন সিইসির এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে শাসক শিবির। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ শুক্রবার (৬ নভেম্বর, ২০২৬) এক প্রতিক্রিয়ায় জানান যে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৬-৭ মাস কেটে গেছে এবং সাধারণ মানুষ অত্যন্ত খুশি। তাঁর মতে, কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় কিছু মানুষ এখন এই ধরণের প্রশ্ন তুলছেন। জনগণের রায় ও সরকারের পছন্দকে সম্মান জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ, নতুবা বিরোধীদের সামনে পথ অত্যন্ত কঠিন হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
দ্য হিন্দুর রিপোর্ট অনুসারে, পুরো বিতর্কটি এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের রায়ের পরই পরিষ্কার হবে এই প্রক্রিয়ায় ঠিক কোথায় কোথায় ত্রুটি ছিল।
