AI প্রতীকি ছবি
Baruipur Minor Rape & Muder
হাইলাইটস:
- বারুইপুরে ১১-১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ।
- তদন্তে অ্যাডিশনাল এসপি পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের সিট (SIT) গঠন।
- ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার ২ অভিযুক্ত, একজনকে পিটিয়ে মারল উত্তেজিত জনতা।
- নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, কড়া শাস্তির আশ্বাস।
- পুলিশের বিরুদ্ধে গৃহবন্দি করে রাখার বিস্ফোরক অভিযোগ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পর, রবিবার ভোরে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার হল বারুইপুরের এক নাবালিকার মৃতদেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকা। নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে, এই অভিযোগে কুলপি রোডে দেহ আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে জনতার রোষের মুখে পড়ে পুলিশ।
তড়িঘড়ি সিট গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ ঘটনার খবর পেয়ে তৎপর হয় প্রশাসন। রবিবারই নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি, আগামী মঙ্গলবার পরিবারটিকে ভবানীভবনে ডেকে পাঠিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই বারুইপুর পুলিশ জেলার অ্যাডিশনাল এসপি পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে একটি ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রণক্ষেত্র বারুইপুর, দায়ের ৩টি মামলা রবিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। বিক্ষোভকারীরা এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে পথ অবরোধ থেকে শুরু করে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন অবরোধ চলে। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, এই গোটা ঘটনায় মোট ৩টি মামলা রুজু হয়েছে। একটি ধর্ষণ-খুনের মামলা এবং বাকি দুটি সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশের ওপর হামলা ও গণপিটুনির ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা।
রাজনৈতিক তরজা ও মমতার ক্ষোভ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ভিডিও বার্তায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে চাইলে, তাঁর বাড়ির সামনে সিআরপিএফ ও পুলিশ মোতায়েন করে তাঁকে কার্যত ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও তিনি ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ এক্স (X) হ্যান্ডেলে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দোষীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে সাংসদকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
