CPM leader Lahek Ali arrested in connection with the Baruipur incident.
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে এবার গ্রেফতার করা হলো স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতা লাহেক আলীকে। গত রবিবার নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ তাঁকে তাঁর বাসভবন থেকে আটক করে। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে কলকাতার ভবানী ভবনে নিয়ে আসা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, বিগত বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে বামফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন লাহেক। আজ, সোমবার তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।
গত ৫ জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে এক নাবালিকার দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। দফায় দফায় বিক্ষোভ, পথ অবরোধ, ভাঙচুর এবং পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেই উত্তেজনার মাঝেই জনরোষের শিকার হয়ে পিটিয়ে খুন করা হয় ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবককে। যদিও পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, নাবালিকা খুনের ঘটনায় ইন্দ্রজিতের কোনো যোগ ছিল না। প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রীও ওই যুবককে নির্দোষ বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনার দিন বিক্ষোভস্থলে লাহেক আলীর উপস্থিতি এবং হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আসছিল স্থানীয়দের একাংশের তরফে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার এক সপ্তাহ পর তাঁকে গ্রেফতার করা হলো। এই নিয়ে বারুইপুরের অশান্তির ঘটনায় মোট ৩৮ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
লাহেক আলীর গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাম নেতৃত্ব।
- সিপিআই(এম)-এর প্রতিক্রিয়া: সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম লাহেককে আটকের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দলের প্রবীণ নেতা সুজন চক্রবর্তীর দাবি, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে লাহেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। ইন্দ্রজিৎ গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতেই লাহেক সেখানে গিয়েছিলেন বলে তাঁর দাবি।
- বিজেপির অবস্থান: অন্যদিকে, এই গ্রেফতারিকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। সোনারপুর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর জানান, হিংসায় উস্কানি দিলে কেউ ছাড় পাবেন না। বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের বক্তব্য, “হিংসায় উস্কানি দেওয়ার ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। রাজ্যে আইনের শাসন চলছে, তাই উস্কানিদাতাদের গ্রেফতার হতেই হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারুইপুর সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
