সেমিতে বিদায় দক্ষিণ আফ্রিকার, তবু অবিস্মরণীয় ডেভিড মিলার!
রবিবার আইসিসি বিশ্বকাপ ২০২৩-এর ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত-অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার ইডেন গার্ডেন্সে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পাকা করেছেন অজিরা। অবশ্য লো স্কোরিং ম্যাচেও টেম্বা বাভুৃমাদের পরাস্ত করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন দলকে।
এদিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তারা। একেবারে গোড়ায়, প্রথম ওভারের শেষ বলে, শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা (Temba Bavuma)। স্টার্কের অফ স্ট্যাম্প ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে অজি উইকেট কিপার জোশুয়া প্যাট্রিক ইংলিশের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ব্যস! সেই থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের চেপে ধরে অস্ট্রেলিয়া। প্রায় ব্যাটের মুখ খুলতে না দেওয়া বন্দিদশা থেকে দলকে বের করে আনেন হেনরিখ ক্ল্যাসেন (Heinrich Klaasen) ও ডেভিড মিলার (David Miller)। প্রথমজন ওই অবস্থা থেকে ৪৮ বলে ৪৭ রান করে আউট হন। আর চূড়ান্ত চাপ সামলে ডেভিড মিলারের ১১৬ বলে ১০১ রান তাঁকে অতিমানবের উচ্চতায় নিয়ে যায়। স্বভাবত উচ্ছ্বসিত সামাজিক মাধ্যম। কিন্তু এত কিছুর পরেও ৪৯ ওভার ৪ বলে ২১২ রানেই গুটিয়া যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইন আপ।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুর দিকে ছন্দেই ছিলেন অজি ব্যাটাররা। সপ্তম ওভারে ৬০ রানের মাথায় প্রথম উইকেট পড়ে তাঁদের। এবং অষ্টম ওভারেই দ্বিতীয় উইকেট। ব্যক্তিগত ২৯ রানে আউট হন ওয়ার্নার (David Warner)। এরপর মাত্র ৯ বলের ব্যবধানে শূন্য হাতে ফিরতে হয় মার্শকে (Mitchell Marsh)। বোলারদের অনুকূলে ভেলকি দেখাতে শুরু করে ইডেনের পিচ। মোটামুটি নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রানের গড়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন ট্রাভিস মাইকেল হেড (Travis Michael Head) ও স্টিভেন স্মিথ (Steven Smith)। কেশব মহারাজ (Keshav Maharaj) যখন হেডকে বোল্ড আউট করেন, ততক্ষণে তাঁর সংগ্রহে মূল্যবান ৬২ রান। অন্যদিকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে স্টিভেন স্মিথ আউট হন দলের ইনিংসে ব্যক্তিগত ৩০ রান যোগ করে। একটা সময়, ৪০ ওভার শেষ হওয়ার এক বল আগে, অস্ট্রেলিয়ার স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় ১৯৩/৭! সেখান থেকেই ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে স্নায়ুর চাপ। ঠান্ডা মাথায় তা সামাল দেন অভিজ্ঞ স্টার্ক (Mitchell Starc) ও কামিন্স (Pat Cummins)। ওঁরাই শেষপর্যন্ত ম্যাচ বের করে নিয়ে যান দক্ষিণ আফ্রিকার হাত থেকে। ১৬ বল বাকি থাকতে মার্কো জনসেনের বলে জয়সূচক বাউন্ডারি মারেন কামিন্স। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ৩ উইকেটে বিজয়ী অস্ট্রেলিয়ার মোট রান ২১৫।
যোগ্য দল হিসেবেই আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে অস্ট্রেলিয়া। ইডেন গার্ডেন্সে সমশক্তির দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে উজ্জীবিত প্যাট কামিন্সের দল। বল হাতে ২১ রান দিয়ে ২ উইকেট এবং ব্যাট হাতে ৪৮ বলে ৬২ রান—দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ ট্রাভিস মাইকেল হেড। এক্স (X, পূর্বনাম Twitter) হ্যান্ডলে তাঁর সার্বিক প্রতিভাকে (‘all-round brilliance) স্বীকৃতি জানিয়ে ম্যাচের সেরা হওয়ার সংবাদ পরিবেশন করেছে আইসিসি।
