TMC MP Kalyan Banerjee suspended from Lok Sabha
নয়াদিল্লি: লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের মহিলা সাংসদদের সঙ্গে অসংসদীয় আচরণ ও কটু মন্তব্য করার অভিযোগে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরো বাদল অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করলেন স্পিকার ওম বিড়লা। বুধবার লোকসভার অধিবেশন চলাকালীন এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চলতি বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতে তিনি আর লোকসভার কার্যাবলীতে অংশ নিতে পারবেন না।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকালে। নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক সহ একাধিক ইস্যুতে বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, মুলতুবির পর অধিবেশন কক্ষের ভেতরেই তৃণমূলের দলত্যাগী ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের তিন মহিলা সাংসদ— কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় এবং মিতালি বাগের সঙ্গে তীব্র বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। অন্য বিরোধী সাংসদেরা মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।
এর পরেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ অন্যান্য মহিলা সাংসদেরা স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে তাঁর কক্ষে গিয়ে দেখা করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত জানান। স্পিকারের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
দুপুর ২টোয় লোকসভার অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে তৎকালীন প্রিসাইডিং অফিসার, টিডিপি সাংসদ কৃষ্ণপ্রসাদ তেনেটি বিষয়টি সভায় উত্থাপন করেন। তিনি জানান, “সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মহিলা সাংসদদের উদ্দেশ্যে অসংসদীয় ভাষা প্রয়োগ করেছেন এবং কটু টিপ্পনি করেছেন। স্পিকারের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। ওঁর এই মন্তব্য সংসদ কক্ষের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে।”
এরপর প্রিসাইডিং অফিসারের নির্দেশে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব পেশ করেন। বিরোধী সাংসদদের হইহট্টগোলের মধ্যেই ধ্বনিভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয় এবং প্রিসাইডিং অফিসার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবিলম্বে লোকসভা কক্ষ ত্যাগ করার নির্দেশ দেন।
সংসদ ভবন চত্বরে এই সিদ্ধান্তের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, “উনি সম্পূর্ণভাবে একজন নারীবিদ্বেষী মানুষ। বারংবার উনি মহিলাদের সংসদের ভেতরে এবং বাইরে অসম্মান করেন ও গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদেই আমরা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলাম। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।”
একই সুর শোনা যায় সাংসদ শতাব্দী রায়ের কণ্ঠেও। তিনি অভিযোগ করেন, “কল্যাণদা প্রায়শই সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং মহিলাদের প্রতি অত্যন্ত নিম্নমানের ভাষা প্রয়োগ করেন। বিষয়টি আগেই দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছিল। স্পিকার যোগ্য পদক্ষেপ করেছেন।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে বড়সড় ভাঙন ধরেছে। ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন সাংসদই মূল দল থেকে আলাদা হয়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই) গঠন করেছেন। এর আগেও গত মে মাসে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বুধবারে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং তৎক্ষণাৎ সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্র যোগ করল।
