এমপিএসসি প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড: সচিবের মুখে কালি, তীব্র ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক উত্তাপ

MPSC Question Paper Leak Scandal: Secretary Faces Humiliation

বিশেষ প্রতিবেদন

মহারাষ্ট্র:

মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPSC) পরিচালিত ড্রাগ ইন্সপেক্টর (Drug Inspector) ও ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র রাজ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ছাত্র বিক্ষোভ চলছে। এই দুর্নীতি ও প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতিবাদে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এমপিএসসি সচিবের ওপর হামলা ও কালি প্রলেপন

বর্তমান ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই গত শুক্রবার नवी মুম্বাইয়ে (Navi Mumbai) অবস্থিত এমপিএসসি-র প্রধান কার্যালয়ে এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। মহারাষ্ট্রের শাসক ব্যবস্থার ওপর জমে থাকা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে ‘সাজ্বী ব্রিগেড’ (Sambhaji Brigade)-এর বেশ কয়েকজন কর্মী এমপিএসসি-র সচিব মহেন্দ্র হরপালিকারের (Mahendra Harpalikar) মুখের ওপর কালো কালি মেখে দেন।

  • ঘটনার বিবরণ: অভিযুক্ত কর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাক্ষাতের নাম করে সচিবের দপ্তরে প্রবেশ করেন। তাঁরা একটি বই উপহার দেওয়ার ও ছবি তোলার ছলে সচিবের মাথায় কালো পাউডার ও কালি ঢেলে দেন।
  • গ্রেপ্তার: এই ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তিন জন কর্মীকে (সুহাস লক্ষ্মণ রাণে, যোগেশ শান্তিলাল পাতিল এবং শ্রীকৃষ্ণ ওরফে আন্নাসাহেব আদিনাথ সাওয়ান্ত) গ্রেপ্তার করে এবং কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করে।
  • সংগঠনের প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনার দায় নিজেদের কাঁধে নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, লক্ষ লক্ষ প্রতিযোগী ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশা ও ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ হলো এই ঘটনা। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ছাত্ররোষকে সমর্থন করলেও এই ধরনের হিংসাত্মক বা বেআইনি পন্থার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। The Hans India

পরীক্ষা বাতিল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেপথ্য কাহিনী

গত মার্চ মাসে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) বিভাগের অধীনে এমপিএসসি ড্রাগ ইন্সপেক্টর (গ্রুপ-বি) পদের স্ক্রিনিং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জুলাই মাসে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলেও, চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। মূলত এক প্রার্থীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন ও সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট ফাঁসের মাধ্যমেই এই কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ এই ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে পরীক্ষায় সপ্তম স্থান অর্জনকারী এক মহিলা পরীক্ষার্থীও রয়েছেন। ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে এমপিএসসি অবশেষে এই সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।

শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন ও প্রধান দাবিগুলি

এই দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে পুনে, কোলহাপুর, এবং নাশিকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। পুনের ওমকারেশ্বর মন্দির থেকে জেলা কালেক্টরেট পর্যন্ত হাজার হাজার শিক্ষার্থী এক বিশাল পদযাত্রা করেন। শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলি হলো:

১. নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ: প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে এমপিএসসি-র চেয়ারম্যান বিবেক ভিমানওয়ার এবং সচিব মহেন্দ্র হরপালিকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। ২. কঠোর আইনি ব্যবস্থা: এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত মূল হোতা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩. উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্ত: স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অতীতের সমস্ত পরীক্ষার কেলেঙ্কারি খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় বা সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

পরিস্থিতি সামাল দিতে মহারাষ্ট্র সরকার নড়েচড়ে বসেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গত দুই বছরে এমপিএসসি-র মাধ্যমে হওয়া বিভিন্ন গ্রুপ-বি ও গ্রুপ-সি পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রগুলিও পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এমপিএসসি চেয়ারম্যান বিবেক ভিমানওয়ার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগের ঘটনা এটি। তবে ছাত্রসমাজের এই লাগাতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক দলগুলির হস্তক্ষেপে মহারাষ্ট্রের প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।