Assam Flood Situation
PHOTO Courtesy-ADGPI
বিশেষ প্রতিনিধি: আসামের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা সামলে উঠলেও বিপদ এখনও কাটেনি। রাজ্যের একাধিক জেলায় কাদা আর জল থৈ থৈ করছে। উজান আসামের প্রায় ১৩ হাজার পরিবার টানা ১১ দিন ধরে অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন, তাঁদের ঘরে এখনও বিদ্যুৎ ফেরেনি। এর মধ্যেই নতুন করে চিন্তার খবর দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। আগামী তিন দিন আসামসহ আশপাশের রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা (অরেঞ্জ অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

রাজ্যের অনেক জায়গা থেকে জল নামতে শুরু করলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩ জনের দেহ উদ্ধার হওয়ায় বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮-এ। বর্তমানে ৭টি জেলার সাড়ে ৫০০-র বেশি গ্রাম জলের নিচে। ৩ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে ত্রাণ শিবির ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
বিদ্যুৎ সংযোগ ও উদ্ধারকাজ:
বন্যার তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শিবসাগর, গৌরীসাগর, নাজিরা, আমগুড়ি ও ডেমো এলাকায়। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, প্রশাসন সব সময় নজর রাখছে। জল নামার সাথে সাথে যেখানে নিরাপদ মনে করা হচ্ছে, সেখানেই দ্রুত কারেন্টের লাইন চালু করা হচ্ছে।
তিনি জানান, “কয়েক দিন আগেও প্রায় ৪০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন ছিল। সেই সংখ্যাটা কমিয়ে এখন ১৩ হাজারে আনা সম্ভব হয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।”
কেন এই ভয়াবহ বন্যা?
জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে আসামে এই ভয়াবহ বন্যা শুরু হয়। গত ১৯ জুলাই রাতে নাগাল্যান্ড এবং উজান আসামে হঠাৎ অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীগুলোর জল এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যায়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নাগাল্যান্ডের রেকর্ড বৃষ্টিই এই বন্যার মূল কারণ। মোকোকচুং জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া চরাইদেও এবং শিবসাগরের স্থানীয় ভারী বৃষ্টি পুরো পরিস্থিতিকে হাতের বাইরে নিয়ে যায়। ২১ জুলাই এক দিনেই বন্যায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
নতুন বৃষ্টির আশঙ্কা:
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্টের মধ্যে আসাম, অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডে আবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। নতুন করে বৃষ্টি হলে আবার জল জমে যাওয়া, পাহাড়ি ধস নামা এবং গাড়ি চলাচল বন্ধ হওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন সালমান খান ও পাপন:
এই কঠিন সময়ে বানভাষী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলউড তারকা সালমান খান। তাঁর ‘বিং হিউম্যান’ সংস্থা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে মিলে শিবসাগরসহ বিভিন্ন এলাকায় চিঁড়ে, বিস্কুট, পাউরুটি, পানীয় জল, স্যানিটারি প্যাড ও মশার ধূপের মতো দরকারি জিনিসপত্র পৌঁছে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, আসামের জনপ্রিয় গায়ক পাপন সামাজিক মাধ্যমে আসামের বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “আসামে বন্যা নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবারের ক্ষয়ক্ষতি কল্পনার বাইরে। গ্রাম ভেসে গেছে, প্রচুর মানুষ গৃহহীন, অনেক মানুষ নিখোঁজ এবং বহু গবাদি পশু মারা গেছে।” তিনি সবাইকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং নিজের পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেন।
বর্তমান পরিস্থিতি:
এবারের বন্যায় আসামের শিবসাগর, চরাইদেও ও জোরহাটসহ একাধিক জেলার প্রায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রশাসন এখন দ্রুত বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনা, ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই নিচু এলাকার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
