মুখ্যমন্ত্রী হত্যা চক্রান্তে হানিট্র্যাপ ! STF-এর হাতে গ্রেফতার হামিমের বান্ধবী অর্পিতা

Honey-trap in plot to assassinate Chief Minister!

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর প্রাণঘাতী হামলার চক্রান্তের তদন্তে নামতেই চাঞ্চল্যকর মোড়! পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সন্দেহভাজন সক্রিয় ক্যাডার হামিম মণ্ডলের গ্রেফতারির পর এবার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর জালে ধরা পড়লেন তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকার। শুক্রবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে বেঙ্গল STF-এর একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে অর্পিতাকে গ্রেফতার করে।

তদন্তকারীদের দাবি, এই জঙ্গি মডিউলে অর্পিতা সাধারণ কোনো চেনা পরিচিত নাম ছিলেন না; বরং রাজ্যের হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও আমলাদের ঘেরাটোপে ঢুকতে তাঁকে ‘হানিট্র্যাপ’ এবং তথ্য চুরির অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

পাকিস্তান থেকে প্রশিক্ষণ, ছদ্মবেশে সমাজে মিশে থাকা

শুক্রবারই বর্ধমানের এক অভিজাত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল হামিম মণ্ডলকে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর:

  • পাক সংযোগ: হামিম পাকিস্তানে গিয়ে সরাসরি জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
  • ছদ্মবেশ: সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকতেন যে প্রতিবেশীদের পক্ষে তাঁর ভেতরে লুকিয়ে থাকা জইশ লিঙ্ক টের পাওয়া অসম্ভব ছিল।
  • মূল উদ্দেশ্য: রাজ্যের প্রভাবশালী নেতা এবং প্রশাসনিক শীর্ষস্তরের ব্যক্তিদের ওপর হামলার রূপরেখা তৈরি করা।

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে মিলল ‘অ্যাসাইনমেন্ট’-এর পর পর ক্লু

হামিমকে টানা জিজ্ঞাসাবাদের পরই উদ্ধার করা হয় তাঁর মোবাইল এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস। সেখান থেকেই উঠে আসে অর্পিতা সরকারের নাম।

গোয়েন্দারা হামিম ও অর্পিতার মধ্যে হওয়া বেশ কিছু গোপন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পুনরুদ্ধার করেছেন। ওই চ্যাট বিশ্লেষণ করতেই জানা যায়, আন্তর্জাতিক হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে একে পর এক আসা ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ কীভাবে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হচ্ছিল। চ্যাটের তথ্যসূত্র ধরেই তড়িঘড়ি ঝাড়খণ্ডে হানা দেয় STF এবং গ্রেফতার করা হয় অর্পিতাকে।

ডার্ক ওয়েবের ছায়া ও পুলওয়ামা কানেকশন
STF ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সূত্রে জানা যাচ্ছে:

কট্টরপন্থী গ্রুপ ও মনিটরিং: পুলওয়ামা হামলার তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা যে সমস্ত কট্টরপন্থী অনলাইন গ্রুপের ওপর নজর রাখছিলেন, সেখানেই প্রথম হামিমের সক্রিয় উপস্থিতি ধরা পড়ে।

ডার্ক ওয়েব লিঙ্ক: জঙ্গি মডিউলটিতে সংগৃহীত গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য বিক্রির জন্য ডার্ক ওয়েব (Dark Web) ব্যবহার করা হতো বলে জোরালো সন্দেহ গোয়েন্দাদের।

আন্তর্জাতিক হ্যান্ডলার 'সাজ্জাদ': হামিম সরাসরি কীভাবে পাক-সংগঠনের মূল হ্যান্ডলার সাজ্জাদের সংস্পর্শে এল, তার উৎস সন্ধান চালানো হচ্ছে।

মুখোমুখি বসিয়ে জেরা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
শনিবারই গ্রেফতার হওয়া অর্পিতা সরকারকে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আদালতে পেশ করে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে STF।

তদন্তকারী আধিকারিকদের কথায়, "অর্পিতা কাকে কাকে হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলেছিলেন, তাঁর তালিকায় আর কোন কোন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক আমলার নাম ছিল—তা জানা অত্যন্ত জরুরি।" দুই সন্দেহভাজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলেই এই পাক-জঙ্গি চক্রান্তের মূল শিকড়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *