Order issued for DNA test to establish buffalo ownership.
বিশেষ প্রতিবেদন
গয়া, বিহার : ঘটি-বাটির লড়াই তো কতই দেখেছেন, তাই বলে একটি মহিষের আসল মালিক কে, তা ঠিক করতে আদালতের কাঠগড়ায় উঠবে ডিএনএ টেস্ট? আজ্ঞে হ্যাঁ, এমনটাই ঘটেছে বিহারে। একটি মহিষের মালিকানা দাবি করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ছড়ানো রক্তচক্ষু আর রাজনৈতিক চাপানউতোরের সমাধানে শেষমেশ বিজ্ঞানেরই শরণাপন্ন হলো পুলিশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দি হিন্দু’-র এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে এই অদ্ভুত অথচ বাস্তব ঘটনাটি।
ঘটনার সূত্রপাত গয়া জেলার সিড়হ গ্রাম থেকে। সেখানকার বাসিন্দা সূর্য যাদব দাবি করেন, কিছুদিন আগে তাঁর বাড়ি থেকে সাধের মহিষটি চুরি হয়ে যায়। হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজির পর পাশের গ্রাম নৌরঙ্গায় প্রকাশ মাঝির বাড়ির খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় সেই মহিষের দেখা মেলে। ব্যস, আর দেখা কেন! সূর্য যাদব একমুহূর্ত দেরি না করে মহিষ নিয়ে সোজা নিজের বাড়ি চম্পট দেন। কিন্তু গল্প কি আর এখানেই শেষ হয়?
‘দি হিন্দু’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ প্রকাশ মাঝি ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছোটেন স্থানীয় অত্রি থানা চত্বরে। তাঁর দাবি, মহিষটি আদতে তাঁরই! জল গড়ায় আরও দূর। মাঝি মহাশয় কেবল মহিষ দাবি করেই ক্ষান্ত হননি, সূর্য যাদবের বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি (উৎপীড়ন প্রতিরোধ) আইনে মামলা ঠুকে দেন।
মহিষটি কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে থানা চত্বরে দু’দিন ধরে চলে টানটান নাটক। সূর্য যাদবের সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ সাময়িকভাবে মহিষটি তাঁর হাতেই তুলে দেয়। তবে রাজনীতি যেখানে ঢোকে, সেখানে জটিলতা তো বাড়বেই! ‘দি হিন্দু’ সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) এবং শাসক শিবিরের শরিক হিন্দুস্তানি অওয়াম মোর্চা (Secular)—দুই দলই এই মহিষ-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে সওয়াল শুরু করে।
অবশেষে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন ত্রাণকর্তা হয়ে মাঠে নামেন মগধ রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক (IG) বিকাশ বৈভব। তিনি গয়া (গ্রামীণ)-র পুলিশ সুপার দিব্যাঞ্জলি জয়সওয়ালকে দ্রুত বৈজ্ঞানিক তদন্তের নির্দেশ দেন।আইজি বিকাশ বৈভব ‘দি হিন্দু’-কে জানান, “যেহেতু সূর্য যাদব দাবি করেছেন যে বিতর্কিত এই মহিষটির জন্মদাত্রী মা এখনও তাঁর গ্রামেই বহাল তবিয়তে রয়েছে, তাই আসল সত্য উদঘাটনে আমরা ডিএনএ (DNA) টেস্টের পথেই হাঁটছি। এছাড়া আর অন্য কী-ই বা উপায় ছিল?”
সুতরাং, এখন মহিষ-মাতার রক্ত বা লালার নমুনা নিয়ে চালানো হবে মাতৃত্ব পরীক্ষা (Maternity Test)। পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অবশ্য উত্তর মিলছে না—এই ‘ডিএনএ জট’ ছাড়িয়ে মহিষটি কার গোয়ালে গিয়ে উঠবে!
