ভোট চুরি’ বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে রাহুল গান্ধীর আবেদন, পথে ইন্ডিয়া জোট

Rahul Gandhi moves Supreme Court over ‘vote theft’ controversy

নিজস্ব প্রতিবেদন.

নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকায় ব্যাপক হারে নাম বাদ দেওয়া এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করল বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব বিরোধীদের এই আন্দোলন এবার পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টের দরজায়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই এই অভিযোগগুলি নিয়ে শীর্ষ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন।

কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধীদের প্রস্তাবিত এই প্রতিবাদ মিছিলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘চলো দিল্লি’। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব-সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক শীর্ষ নেতার এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা। দিল্লির কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যাওয়ার কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, দীপেন্দর সিং হুডা, গৌরব গগৈ এবং ইমরান প্রতাপগড়ির মতো কংগ্রেস নেতারাও অংশ নেন।

রাহুল গান্ধীর দায়ের করা মামলাটির শিরোনাম ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন’। তাঁর আইনজীবী দলের সদস্য এস প্রসন্ন আবেদন জমা পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগই এই আবেদনের অন্যতম বিষয়।

এদিকে, বিরোধী নেতারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের বক্তব্য জানাতে চাইলেও তিনি তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হননি বলে সূত্রের খবর। পরিবর্তে, বিষয়টি ইতিমধ্যেই আদালতের বিচারাধীন থাকায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আবেদন জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকারীদের আটকাতে দিল্লিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

রাহুলের বক্তব্য, সত্যের পক্ষে থাকায় বিরোধীরা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসবেন না। সংবিধানকে নিজের ধর্ম বলে উল্লেখ করে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন।

তবে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা এবং মামলার পরিণতি নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া। আপাতত নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত এবং সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া আবেদন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।