Cyclone Murusu in the Bay of Bengal
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে মঙ্গলবার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা, তার পর আবহাওয়া শুষ্ক হওয়ার পূর্বাভাস
নিজস্ব সংবাদদাতা: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে গভীর নিম্নচাপ। রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরুসু’তে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়ের স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
অন্ধ্র উপকূলে কোথায় আছড়ে পড়তে পারে?
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়টির আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’-এ পরিণত হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে কতটা প্রভাব পড়বে?
ঘূর্ণিঝড় ‘মুরুসু’-র সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় পড়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। তবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। এর পর থেকে ধীরে ধীরে আবহাওয়া শুষ্ক হতে শুরু করবে বলে পূর্বাভাস।ফলে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার কিছু এলাকায় সতর্কতা বাড়লেও পশ্চিমবঙ্গে আপাতত বড় ধরনের প্রভাবের আশঙ্কা নেই। তবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পরবর্তী পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা জরুরি।
সতর্ক ওড়িশা সরকার
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে ওড়িশা সরকার রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে প্রস্তুতি বাড়িয়েছে বলে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
‘মুরুসু’ নামকরণ করেছে ভারত
ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘মুরুসু’ রেখেছে ভারত। শব্দটির অর্থ যুদ্ধের ঢাক বা রণবাদ্য। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, শক্তি ও উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাব্য সময়ের দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর।
বিশেষ সতর্কতা: ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতা পরিবর্তিত হতে পারে। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়া দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
