দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের বাইরে বিক্ষোভ! দুই অফিসারের বদলি ঘিরে বাহিনীর অন্দরে অসন্তোষ

Police personnel protest outside headquarters against the transfer of a police official

নিজস্ব প্রতিবেদন

নয়াদিল্লি: আইনজীবীর সঙ্গে সংঘর্ষের জের, দুই পুলিশকর্তার বদলির প্রতিবাদে সদর দফতরের বাইরে বিক্ষোভে সামিল প্রায় ৮০ পুলিশকর্মী

দিল্লি পুলিশের অন্দরে এবার বদলি ঘিরে অসন্তোষ। শাহদরা থানায় এক আইনজীবীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পুলিশকর্তার বদলির প্রতিবাদে সোমবার দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের বাইরে বিক্ষোভ দেখালেন বাহিনীর প্রায় ৮০ জন কর্মী। তাঁদের দাবি, বদলি হওয়া দুই আধিকারিককে আগের পদে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই দাবিতে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করারও আবেদন জানান তাঁরা। সদর দফতরের ১ নম্বর গেটের বাইরে ফুটপাতে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের দাবি ছিল, পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে একটি ‘সম্পর্ক সভা’ বা সরাসরি আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে বদলি নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা জানানো যায়।

গত ২৩ অক্টোবর শাহদরা থানায় একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সেই ঘটনায় এক আইনজীবীর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনার পর গান্ধীনগর মহকুমায় কর্মরত সহকারী পুলিশ কমিশনার মানস্বী বশিষ্ঠ এবং শাহদরা থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) ইন্সপেক্টর অরুণ কুমারকে বদলি করা হয়।দুই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন জেলা আদালতের আইনজীবীরা। শেষ পর্যন্ত ২৮ অক্টোবর বদলির নির্দেশ জারি হওয়ার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেন তাঁরা।

তবে আইনজীবীদের দাবি মেনে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পুলিশের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বদলি হওয়া আধিকারিকদের সমর্থনে সোমবার সদর দফতরের সামনে জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দিল্লি পুলিশের বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন নয়াদিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) সচিন শর্মা। তিনি বদলি হওয়া আধিকারিকদের অন্যতম সহকারী পুলিশ কমিশনার মানস্বী বশিষ্ঠের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁকে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে সচিন শর্মা পুলিশের শৃঙ্খলার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁর বক্তব্য, পুলিশের মতো বাহিনীর সদস্যদের বিক্ষোভকারীদের মতো আচরণ করা উচিত নয়। কয়েকজন পুলিশকর্মীকে সদর দফতরের ভিতরে তাঁর সঙ্গে যাওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি। কিন্তু কেউই সেই প্রস্তাবে রাজি হননি।

অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের দাবিতে অনড় থাকেন। তবে সদর দফতরের বাইরে জমায়েত হওয়া পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে কোনও পদস্থ আধিকারিক বাইরে আসেননি।পুলিশের এই অসন্তোষ নিছক দুই আধিকারিকের বদলি ঘিরে ক্ষোভ, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও গভীর কোনও অসন্তোষ—সেই প্রশ্নই এখন গুরুত্বপূর্ণ। আইনজীবীর মাথায় গুরুতর আঘাতের অভিযোগের পর তাঁদের কর্মবিরতি, তার জেরে দুই পুলিশকর্তার বদলি এবং এবার সেই বদলির প্রতিবাদে পুলিশের একাংশের প্রকাশ্যে বিক্ষোভ—পুরো ঘটনাপ্রবাহ প্রশাসনের কাছে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। আইন রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁদেরই একাংশ যদি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এভাবে পথে নামেন, তবে তা নিছক অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পুলিশের শৃঙ্খলা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা এবং বাহিনীর অন্দরে জমে থাকা অসন্তোষ—সবকিছুই নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে। এই পরিস্থিতি তাই শুধু দিল্লি পুলিশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও বাহিনীর মনোবলের প্রশ্নেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *