‘নফরত ছোড়ো, মহব্বত জোড়ো’— মসজিদ রক্ষায় হিন্দু অধ্যুষিত বারমেরে সম্প্রীতির নজির

Barmer Protest Rally For Peace

বারমের (রাজস্থান):
দেশজুড়ে যখন ধর্মীয় উত্তেজনা, বিদ্বেষ ও বিভাজনের খবর বারবার শিরোনামে উঠে আসছে, ঠিক সেই সময় রাজস্থানের সীমান্তবর্তী বারমের জেলার একটি ছোট্ট গ্রাম যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বার্তা দিল। সেই বার্তা ঘৃণার নয়, ভালোবাসার; বিভেদের নয়, সম্প্রীতির।

ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন মালানা গ্রামের রাস্তায় নেমেছিলেন কয়েক হাজার নারী-পুরুষ, প্রবীণ, যুবক ও শিশুরা। তাঁদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড— “নফরত ছোড়ো, মহব্বত জোড়ো”, “প্রেম, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বই আমাদের পরিচয়”। কেউ ধর্মের কথা বলেননি, বলেছেন মানুষের কথা।

এই গ্রামের প্রায় ৮০ শতাংশ বাসিন্দাই হিন্দু। অথচ তাঁরাই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন চারটি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনার বিরুদ্ধে। তাঁদের বক্তব্য, একটি উপাসনালয় শুধু একটি সম্প্রদায়ের নয়, একটি গ্রামের সামাজিক সম্প্রীতিরও প্রতীক।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বারমের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে “অপারেশন ক্লিন” অভিযান চালিয়ে প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী অনুমোদনহীন চারটি মসজিদ ভেঙে দেয়।

প্রশাসনের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ। তবে সেই ঘটনার পর মালানা গ্রামের বহু বাসিন্দা রাস্তায় নেমে সম্প্রীতির পক্ষে অবস্থান নেন। তাঁদের দাবি, আইন তার নিজস্ব পথে চলবে, কিন্তু সমাজে ঘৃণা নয়, পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহাবস্থানই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় শক্তি।

মিছিলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “নফরত ছোড়ো, মহব্বত জোড়ো”, “সবচেয়ে বড় ধর্ম মানবতা”, “হিন্দু-মুসলিম ঐক্য জিন্দাবাদ”— যা উপস্থিত মানুষের বার্তাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় উত্তেজনা ও বিভেদের খবরের ভিড়ে মালানা গ্রামের এই উদ্যোগ অনেকের কাছেই সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার এক ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। আইন, প্রশাসন ও সামাজিক সম্প্রীতি— এই তিনের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে এই ঘটনা।