দিল্লিতে তুমুল উত্তেজনা: সংসদ অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র টলস্টয় মার্গ,অনশনে সোনম ওয়াংচুক

Tension in Delhi over the march to Parliament

নয়াদিল্লি: মেঘলা আকাশ আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মাঝেই সোমবার নজিরবিহীন উত্তেজনায় কেঁপে উঠল দেশের রাজধানী দিল্লি। নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) আন্দোলনের আজ ছিল ২৩তম দিন। এই উপলক্ষে আয়োজিত ‘সংসদ চলো’ (Sansad Chalo) অভিযান ঘিরে দুপুরের দিকে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দিল্লির টলস্টয় মার্গ ও সংসদ মার্গ সংযোগস্থল। ১০,০০০-এরও বেশি বিক্ষোভকারী যখন জোরপূর্বক সংসদের দিকে এগোতে যান, তখনই পুলিশের বিশাল বাহিনীর সাথে তাঁদের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে।

আশুতোষ রাঙ্কার হুঙ্কার: “সরকার চরম চাপে, এটাই আমাদের জয়”

মিছিল শুরু হওয়ার আগে যন্তর মন্তরে জমায়েত হওয়া হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রাখেন সিজেপি (CJP) মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। তিনি বলেন, “আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই সংসদ অভিযানের পরবর্তী রূপরেখা জানিয়ে দেব। তবে এটুকু বলতে পারি, এই আন্দোলনের জেরে সরকার এখন চরম চাপে রয়েছে এবং এটাই আমাদের প্রাথমিক জয়।” বিক্ষোভের জেরে দিল্লির পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা সিল করে দিয়েছে এবং এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

হাসপাতালে ‘নজরবন্দি’ সোনম ওয়াংচুক, দিলেন কঠিন শর্ত

এই আন্দোলনের মাঝেই নতুন মাত্রা যোগ করেছেন প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অনশনরত অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকেই তিনি অভিযোগ করেন যে, তাঁকে সেখানে “বেআইনিভাবে আটকে” রাখা হয়েছে এবং তাঁর কথা বলা ও যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে।

আমরণ অনশন ভাঙার বিষয়ে ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর শর্তাবলী:

  • কেন্দ্রীয় সরকারকে জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের নৈতিক দায় স্বীকার করতে হবে।
  • অথবা, তাঁকে এবং সিজেপি (CJP) নেতাদের সংসদে গিয়ে সাংসদদের কাছ থেকে এই বিষয়ে আশ্বাস পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
  • শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি যদি মিছিলে যোগ দিতে না পারেন, তবে রাজনৈতিক নেতাদের হাসপাতালে এসে তাঁকে এই বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, পুলিশ-বিক্ষোভকারী খণ্ডযুদ্ধ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল মিছিলটি টলস্টয় মার্গের মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাঁদের পথ আটকায়। সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়া রুখতে ওই এলাকায় ভারী পুলিশি ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উত্তেজিত আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ ব্যারিকেড ভেঙে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে তীব্র ধস্তাধস্তি ও খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। বেশ কয়েকটি ব্যারিকেড উল্টে যায়।

কেন এই তুমুল বিক্ষোভ? জেনে নিন মূল দাবিগুলি

ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) এই বিশাল আন্দোলনের পেছনে রয়েছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সাম্প্রতিক পরীক্ষা সংক্রান্ত একগুচ্ছ ক্ষোভ:

  • NEET ও জাতীয় স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস (Paper Leaks) কেলেঙ্কারির নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) অবিলম্বে পদত্যাগ।
  • পরীক্ষায় অনিয়ম ও মানসিক অবসাদের কারণে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার (Student Suicides) ঘটনার বিচার ও তদন্ত।

অচল রাজধানী: ২ কিমি রাস্তা অবরুদ্ধ

এই বিক্ষোভের জেরে যন্তর মন্তর থেকে শুরু করে প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার আন্দোলনকারী রাস্তায় বসে স্লোগান দিচ্ছেন। পুলিশি বাধার মুখে পড়ে সংসদ অভিযান আপাতত স্থগিত (Stand by) রাখা হলেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটতে নারাজ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সংসদ মার্গ এলাকায় পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত থমথমে এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।