Controversy over removing loudspeakers from the mosque
বিশেষ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের নানা জায়গায় মসজিদ থেকে মাইকের চোঙা খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘিরে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয় মানুষের একাংশের অভিযোগ, নির্ধারিত আইনি সীমার মধ্যে শব্দ রেখে আজান দেওয়া হলেও হঠাৎ করে পুলিশ এসে মাইক সরাতে বলছে। এতে অনেক সাধারণ মানুষ চিন্তায় পড়েছেন।
এই বিষয়ে আমজনতার আইনি অধিকার রক্ষা করতে আদালতের পথ ধরছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছেন। আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন— আইন মেনে, শব্দের মাত্রা ঠিক রেখে মাইক বাজালে তা জোর করে বন্ধ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই নিয়ে খুব শিগগির কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হবে।
কিন্তু ভারতের আইন এই বিষয়ে কী বলে? সাধারণ মানুষ ও ছোটদের বোঝার মতো করে তা সহজ ভাষায় নিচে বুঝিয়ে দেওয়া হলো।
১. সব ধর্মের জন্যই কি এক আইন?
হ্যাঁ। ভারতে মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা গুরুদ্বারে মাইক বা লাউডস্পিকার বাজানোর জন্য আলাদা কোনো ধর্মের আলাদা নিয়ম নেই। সবার জন্যই একই নিয়ম প্রযোজ্য। এই নিয়ম ঠিক করা হয় ২০০০ সালের ‘শব্দদূষণ প্রতিরোধ আইন’ অনুযায়ী।

২. মাইক বাজাতে গেলে কী কী নিয়ম মানতে হয়?
আইন অনুযায়ী মাইক বা লাউডস্পিকার বাজাতে গেলে মূলত তিনটি প্রধান নিয়ম মেনে চলতে হয়:
- পুলিশের অনুমতি: যেকোনো ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে মাইক বাজাতে গেলে আগে থেকে স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসনের থেকে লিখিত চিঠি বা অনুমতি নিতে হয়।
- রাতের বেলার নিয়ম: রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্রকাশ্যে বা খোলা জায়গায় কোনো রকম মাইক বাজানো একদম বারণ। তবে রাজ্য সরকার বছরে মাত্র ১৫ দিন (যেমন বিশেষ কোনো উৎসবে) এই ছাড় রাত ১২টা পর্যন্ত দিতে পারে।
- শব্দের মাত্রা বা সাউন্ড সীমা: মাইক কত জোরে বাজবে, তার একটা নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে। আইন অনুযায়ী, পাশের বাড়ির মানুষের কানে যেন কানফাটা আওয়াজ না যায়, সেই মতো কম আওয়াজে (নির্ধারিত ডেসিবেল সীমার মধ্যে) মাইক বাজাতে হবে।
৩. দেশ বা আদালতের বক্তব্য কী?
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও সংবিধান অনুযায়ী:
- প্রত্যেকেই নিজের নিজের ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেন।
- তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মাইক বা লাউডস্পিকার বাজানো ধর্ম পালনের বাধ্যতামূলক কোনো অংশ নয়।
- একজন মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতার কারণে যেন অন্য মানুষের শান্তিতে ঘুমানো, পড়ালেখা করা বা অসুস্থ রোগীর শরীরের ক্ষতি না হয়।
৪. তাহলে পুলিশি পদক্ষেপ কেন ‘বেআইনি’ বলা হচ্ছে?
আইনজীবীদের কথা হলো— কোনো মসজিদ বা মন্দির যদি: ১. প্রশাসনের থেকে আগে অনুমতি নিয়ে থাকে, এবং ২. নির্ধারিত আইনি সীমার মধ্যে কম আওয়াজে মাইক বাজায়,
তবে পুলিশ জোর করে সেই মাইক খুলে নিতে পারে না। কারণ, যে নিয়ম মেনে চলছে, তার মাইক কাড়া বেআইনি। কোনো সমস্যা থাকলে বা আইন ভাঙলে পুলিশ আগে নোটিশ দিতে পারে, কিন্তু সরাসরি এসে জোরজবরদস্তি করা সঠিক কাজ নয়।
এক নজরে সহজ নিয়মকানুনের তালিকা:
সহজ কথায় মূল বিষয়: শব্দ যাতে বেশি না হয়, সেটা দেখা সরকারের কাজ। কিন্তু যারা আইন আর সরকারি নিয়ম মেনে কম আওয়াজে মাইক বাজাচ্ছেন, তাদের মাইক খুলে নেওয়াটা আইনের চোখে ঠিক নয়। এই বেআইনি বিষয়টির বিরুদ্ধেই নওশাদ সিদ্দিকী ও বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতের কাছে সুবিচার চাইতে যাচ্ছেন।
