বানর-লীলায় জেরবার উত্তরপ্রদেশ: হাইকোর্টের কড়া আলটিমেটাম, ১২ অক্টোবরের মধ্যে রফা না হলে আদালতের সমন!

Uttar Pradesh government grappling with monkey menace; High Court issues strict directive.

বিশেষ প্রতিবেদন

গলি থেকে রাজপথ, বাড়ির ছাদ থেকে ব্যালকনি—যোগীর রাজ্যে ‘বানর সেনা’র দাপটে অতিষ্ঠ আমজনতা। ১৫ মাস ধরে আদালত চোখ লাল করে বসে আছে, আর এদিকে প্রশাসন নাকি ঠুঁটো জগন্নাথ! শেষমেশ এলাহাবাদ হাইকোর্টের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। প্রধান বিচারপতি অরুণ ভনসলি এবং বিচারপতি ক্ষিতিজ শৈলেন্দ্রের বেঞ্চ একদম পরিষ্কার জানিয়ে দিল—শুধুমাত্র সময় কাটাতে কমিটি গড়ে ভাওতা দেওয়া আর চলবে না!

আদালতের কড়া ‘শট’: রাজ্য সরকার বানর-উপদ্রব সামলাতে ১৩ সদস্যের এক ঢাউস কমিটি গড়ে ভাবছিল দায় মেটাল। কিন্তু হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ—কমিটির মেম্বাররা একেবারেই ‘সিরিয়াস’ নন। ১ সেপ্টেম্বর শুনানিতে আদালত দেখে, আগের নির্দেশের কোনো পাত্তাই নেই সরকারি খাতায়। বেঞ্চের চাঁচাছোলা মন্তব্য, “সমস্যাটা মানুষের প্রতিদিনের মাথাব্যথা, আর কর্তারা মনে হয় ঘুমোচ্ছেন!”

হাইকোর্টের তিন দফা খাঁটি দাওয়াই: ১. সাপ্তাহিক মিটিং আবশ্যিক: ঘুমকাতুরে ১৩ জনের কমিটিকে এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে বৈঠকে বসতে হবে। কী কী গল্প বা সিদ্ধান্ত হলো, তার পঙ্খানুপুঙ্খ মিনিটস তৈরি করে পেশ করতে হবে আদালতে। ২. ডেডলাইন ১২ অক্টোবর: আগামী ১২ অক্টোবর, ২০২৬ পরবর্তী শুনানির দিন। তার আগেই বানর জাঁতা থেকে বাঁচার জন্য সুনির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ ফাইনাল করতে হবে। ৩. অনথায় হাজিরা: কাজ না হলে বন দপ্তর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের দুই প্রধান সচিবকে সোজা আদালতে হাজির হতে হবে। টেবিল চাপড়ে কাজ আদায়ের এই আইনি বন্দোবস্তেই এখন কালঘাম ছুটছে আমলাদের।

এমনিতে দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যান বানাতে ‘ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া’-র কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আদালত বুঝিয়ে দিয়েছে—গবেষণা আর ফাইল চালাচালি বন্ধ করে এবার কাজের কাজ করে দেখাক সরকার!