‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, কেন্দ্রের জবাব তলব

Case in Supreme Court over making the singing of ‘Vande Mataram’ mandatory.

নিজস্ব প্রতিবেদন: ‘বন্দে মাতরম’-এর পুরো ৬টি স্তবকই গাওয়া বাধ্যতামূলক করা এবং তা না মানলে শাস্তির বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। কর্ণাটকের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণ এই মামলাটি করেছেন। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা-র বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়েছে।

মূল বিতর্কটি কী?

  • আইনের সংশোধনী: ১৯৭১ সালের একটি জাতীয় সম্মানহানি বিরোধী আইনে ২০২৬ সালে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দুটি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জাতীয় গান গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিলে বা অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটালে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত জেল, জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
  • আপত্তি কোথায়: মামলাকারীর দাবি, ‘বন্দে মাতরম’-এর শেষ চারটি স্তবকে দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মতো হিন্দু দেবদেবীদের উল্লেখ রয়েছে। তাই সবার জন্য এই পুরো গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হলে তা অনেকের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসের পরিপন্থী হতে পারে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য

শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট করে জানান, কোন গান ‘জাতীয় গান’ হবে, তা ঠিক করা আদালতের কাজ নয়। তবে ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে কেউ যদি এই গানটি না গায়, তবে তার জন্য তাকে ফৌজদারি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে কি না—আদালত মূলত সেই প্রশ্নটাই খতিয়ে দেখবে।

এ প্রসঙ্গে আদালত ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ‘বিজয় ইমানুয়েল বনাম কেরল সরকার’ মামলার কথা মনে করিয়ে দেয়। ওই মামলায় জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকার করা তিন স্কুলছাত্রের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে সুরক্ষা দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বাগচী জানান, বিবেকের আপত্তির কারণে কেউ গানটির সব বা কিছু স্তবক না গাইলে তাকে অপরাধীর মতো শাস্তি দেওয়া ঠিক হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অন্যদিকে, কেন্দ্রের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই মামলার বিরোধিতা করে জানান যে ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ এতটাও সংকীর্ণ হতে পারে না।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

আবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার আগে ১৯৩৭ সাল থেকেই কংগ্রেসের বৈঠকে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার নিয়ম চলে আসছে। ১৯৫০ সালে ‘জন গণ মন’-কে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলেও ‘বন্দে মাতরম’-কে সেইভাবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু ২০২৬ সালের নতুন সংশোধনীর ফলে পুরো আইনটাই বদলে গেছে, কারণ এবার এর সঙ্গে জেলের মতো কড়া ফৌজদারি শাস্তির বিধান জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের জবাব পাওয়ার পর আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্ট এই সংশোধিত আইনের বৈধতা এবং মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অধিকার নিয়ে আরও বিস্তারিত শুনানি করবে।

তথ্য সুত্র- লাইভ ল