মুকুন্দপুরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, আহত হুমায়ুন কবীর ও উপাসনা চৌধুরী নিন্দায় কংগ্রেস

Clash between Trinamool and BJP in Mukundapur

নিজস্ব প্রতিবেদন

কলকাতা: যাদবপুর এলাকায় দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার মুকুন্দপুরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল। ঘটনায় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবং নেত্রী উপাসনা চৌধুরী-সহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে তৃণমূলের দাবি। দুই কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, যাদবপুর চত্বরে তাদের বেশ কয়েকটি দলীয় কার্যালয় বিজেপি দখল করেছে। তার প্রতিবাদে মঙ্গলবার মুকুন্দপুরে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিল এগিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি, মিছিলের উপর চড়াও হন বিজেপি কর্মীরা। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

ঘটনায় গুরুতর আহত হন প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর জখম মুখের ছবি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছে তৃণমূল। দলের নেত্রী উপাসনা চৌধুরীও একাধিক অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, মিছিলে থাকা মহিলা কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। তাঁকে চুল ধরে রাস্তায় ফেলে মারধর এবং পোশাক ধরে টানাটানি করা হয়েছে।

উপাসনার আরও অভিযোগ, তাঁর অসুস্থ বাবাকে তাঁর চোখের সামনে মারধর করা হয়েছে। তাঁর মায়ের গায়েও হাত তোলা হয় বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর পূর্ব যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপাসনা।

তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের দাবি, ৭৮ ও ১০৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, উপাসনার বাড়িতে হামলার পাশাপাশি তাঁর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, প্রথমে তাদের এক কর্মীর উপর হামলা হয়। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা আহত হয়েছেন বলেও বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে।

মুকুন্দপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনায় উভয় পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত।