ফ্রান্স জুড়ে ছাত্র আন্দোলনের দাবানল: কেন উত্তাল প্যারিস থেকে শুরু করে পুরো দেশ?

Student protests sweep across France.

বিশেষ প্রতিবেদন

ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত ও অগ্নিগর্ভ। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে হাইস্কুল ও কলেজছাত্রদের আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিক থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একে “নিয়ন্ত্রণহীন” বলে ঘোষণা করেছেন প্যারিসের পুলিশ প্রধান।

এই বিশাল উত্তেজনার মূল কারণগুলো কী?

শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভ একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা:

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা: স্কুলগুলোর পরিকাঠামো অত্যন্ত খারাপ। ভাঙাচোরা ভবন, নষ্ট শৌচাগার এবং অনেক স্কুলে ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমছিল।
  • তীব্র গরম ও অস্বাস্থ্যকর শ্রেণিকক্ষ: এ বছর ফ্রান্সের গ্রীষ্মকাল ছিল প্রচণ্ড গরম। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল। অথচ স্কুলগুলোতে এসির (AC) কোনো ব্যবস্থা নেই, দুর্বল ইনসুলেশনের কারণে গাদাগাদি করে বসা ৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য ক্লাসরুমগুলো অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।
  • শিক্ষক সংকট ও অতিরিক্ত সময়: শিক্ষক ও স্কুলকর্মীর তীব্র ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় ধরে (সকাল ৮টা থেকে রাত ৬টা পর্যন্ত) ক্লাসে আটকে থাকতে হয়। পড়াশোনার চাপ এবং শিডিউল নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লান্ত ও অতিষ্ঠ।
  • বৈষম্যমূলক বাজেট বরাদ্দ: নিম্ন আয়ের এলাকার স্কুলগুলোতে ধনী এলাকার তুলনায় অনেক কম অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সমতার ভিত্তিতে তহবিল বরাদ্দের দাবি তুলেছে শিক্ষার্থীরা।
  • সরকারের বাজেট সংকোচন নীতি: প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারের আগামী বছরের বাজেটে প্রায় ৪,৩০০ কোটি ইউরো খরচ কমানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আগেই ক্ষুব্ধ ছিলেন সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মীরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষা খাতের বেহাল দশা, যা আগুনে ঘি ঢেলেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি কেমন?

  • ব্যাপক গ্রেফতার ও সংঘাত: গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় ৫,০০০ মানুষকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন শত শত পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থী। ২৪টিরও বেশি স্কুল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বা ভাঙচুর করা হয়েছে।
  • স্কুল বন্ধ ও অনলাইন ক্লাস: নিরাপত্তার কারণে দেশটির শত শত হাইস্কুল ও অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস স্থগিত বা আংশিক বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জরুরি বৈঠক ডেকে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করেছেন।
  • উগ্রপন্থীদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা: পুলিশ ও প্রশাসনের শঙ্কা, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনকে হাইজ্যাক করে সহিংসতার সুযোগ নিচ্ছে কিছু উগ্রপন্থী ও বহিরাগত দাঙ্গাবাজ। আগামী মঙ্গলবার আরও বড় বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।