Freedom Movement & Raghunath Mahato
পশ্চিম মেদিনীপুর
নিজস্ব প্রতিবেদন
নতুন প্রজন্মের মধ্যে কতজন চুয়াড় বিদ্রোহের কথা জানেন, কতজনের জানা আছে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বিরুদ্ধে জল জঙ্গল জমিনের রক্ষার জন্য লড়াই করে পরাধীন ভারতে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন রঘুনাথ মাহাতো। আদিবাসী, কুড়মি পিছিয়ে পড়া জনজাতি যে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। সেই পথ দেখিয়েছিলেন শহীদ রঘুনাথ মাহাতো। মহান এই বিপ্লবী শহীদের জন্মদিনে তাঁর মূর্তির উন্মোচন করা হল পশ্চিম মেদনীপুরের শালবনীর ভীমপুরের কয়মা কলেজ মোড়ে। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা রঘুনাথ মাহাতো স্মৃতিরক্ষা কমিটি( আবগা কুড়মি সেনা)।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো, মহা মোড়ল অনুপ মাহাতো, মুলুকদার রাজেশ মাহাতো, মৃন্ময় মাহাতো, সঞ্জয় মাহাতো, পুলকেশ্বর মাহাতো ও নৃপেন মাহাতোসহ বিশিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহা মোড়ল অনুপ মাহাতো বলেন নিজের প্রাণ বলিদানের মধ্য দিয়ে সমগ্র জাতিকে অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিখিয়েছেন। আমরা আজ তাঁর দেখানো পথে কুড়মিদের যে জাতিসত্তার লড়াই সেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। যতক্ষণ আমাদের দাবিপূরণ হচ্ছে সে লড়াই জারি থাকবে। কারণ কুড়মিরাই ভারতবর্ষের প্রথম আদিম জনজাতি। এটা মুখের কথা নয় বিজ্ঞানের গবেষণায় তা প্রমাণিত হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো বলেন রঘুনাথ মাহাতোর আদর্শ সংগ্রাম লড়াইয়ের কথা নতুন প্রজন্মে সামনে আমাদের তুলে ধরতে হবে।

রঘুনাথ মাহাতোর লড়াই
১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী জয়লাভের পর ইংরেজরা বাংলা বিহার উড়িষ্যার সাথে সাথে ছোটনাগপুরের দেওয়ানি লাভ করে। শুরু হয় তাদের কৃষকদের কাছে কর আদায়। সেই সময় আদিবাসীদের জমি ছিনিয়ে নিয়ে সেই জমি জমিদারদের হাতে তুলে দিয়ে কর আদায় করতে থাকে। কর আদায়ের নামে শুরু হয় প্রবল দমন পীড়ন। অত্যাচার সহ্যের সীমা ছাড়ালে রঘুনাথ মাহাতোর নেতৃত্বে শুরু হয় ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই। ১৭৬৯ সালে ফাল্গুন পূর্ণিমার দিন নিমডির একমাঠে জনসভা করেে ঘোষণা করেন ” আপন গাঁও আপন রাজ, দূর খেদাও ব্রিটিশ রাজ “। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিদ্রোহের আগুন। বাধ্য হয় ইংরেজরা কর নেওয়া বন্ধ করতে। আদিবাসীরা নিজেদের জমি ছিনিয়ে নিতে শুরু করে।
রঘুনাথ মাহাতোর নেতৃত্বে চারিদিকে চুয়াড় বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। চলে বেশ কয়েক বছর। দাবানলের মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় চূয়াড় বিদ্রোহ। বার বার ইংরেজ সেনাদের সঙ্গে আদিবাসী প্রবল লড়াই চলতে থাকে। ৫ই ১৭৭৬ সালে রাঁচিতে ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে প্রবল লড়াইয়ের মাঝে ইংরেজ সেনারা রঘুনাথ মাহাতো ও তাঁর সঙ্গীদের হত্যা করে। তাঁদের বীরত্ব আজ মনে রাখতে হবে। আজ স্বাধীন ভারতে যখন আদিবাসীদের জল জঙ্গল জমিনের দাবীতে আন্দোলন হয় তখন মনে পড়বে শহীদ রঘুনাথ মাহাতোর নাম।
