ফের কি কংগ্রেসের হাত ধরতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

Mamata and Congress Equatation

ভারতের রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। যে রাজনীতিবিদ একসময় কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন, তিনিই কি আবার কংগ্রেসে ফিরে যেতে পারেন?

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এই প্রশ্নই এখন দিল্লি থেকে কলকাতা—সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

কেন উঠছে এই প্রশ্ন?

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলের ভেতরে বিদ্রোহ, সাংগঠনিক অস্থিরতা এবং একাধিক নেতার দলত্যাগ রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তৃণমূলের একাংশের বিধায়ক ও সাংসদদের অবস্থান নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তৃণমূলের বিভিন্ন কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এর মধ্যেই রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেবের পদত্যাগ এবং দলের ভেতরে অসন্তোষের একাধিক খবর সামনে এসেছে।

দিল্লিতে মমতা-সোনিয়া, অভিষেক-রাহুল বৈঠক

এই আবহেই দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর বৈঠক এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর সাক্ষাৎ নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এ কি শুধুই বিরোধী ঐক্যের আলোচনা, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে?

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তৃণমূলের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্ভাব্য একীভূত হওয়ার জল্পনা সরাসরি খারিজ করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, এমন কোনও আলোচনা হয়নি।

মমতার সামনে কী কী বাস্তব চ্যালেঞ্জ?

বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে কয়েকটি বড় প্রশ্ন রয়েছে—

  • ভাঙনের মুখে সাংগঠনিক কাঠামোকে কীভাবে পুনর্গঠন করবেন?
  • দলত্যাগী নেতাদের প্রভাব কতটা সামলানো সম্ভব হবে?
  • জাতীয় রাজনীতিতে নিজের প্রাসঙ্গিকতা কীভাবে বজায় রাখবেন?
  • আগামী দিনে বিরোধী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার জন্য নতুন কৌশল কী হবে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যদি তৃণমূলের সংকট আরও গভীর হয়, তাহলে জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমঝোতা মমতার কাছে একটি বিকল্প রাস্তা হতে পারে। যদিও তা একীভূত হওয়ার অর্থ নয়।

ইতিহাস কী বলে?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল কংগ্রেস থেকেই। দীর্ঘদিন কংগ্রেস রাজনীতি করার পর ১৯৯৮ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। পরে কংগ্রেসকে সঙ্গী করেই বাংলায় ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটান।

ভারতীয় রাজনীতিতে দল ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে পরে মূল দলে ফেরার নজিরও রয়েছে। তাই রাজনীতির ইতিহাস বলছে, কোনও সম্ভাবনাকেই একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।