History Of Love Jihad
নিজস্ব প্রতিবেদন
সাব-হেডিং
২০০৯ সালে কেরালার একটি বিতর্ক থেকে শুরু। তারপর আদালত, তদন্ত, রাজনীতি এবং আইন—কীভাবে ‘লাভ জিহাদ’ ভারতের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠল?
লাভ জিহাদ—আসলে কী?
গত কয়েক বছরে ভারতের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত শব্দগুলোর একটি হল ‘লাভ জিহাদ’।এই শব্দটি দিয়ে এমন একটি অভিযোগ বোঝানো হয়, যেখানে বলা হয়—কিছু মুসলিম যুবক পরিকল্পিতভাবে হিন্দু (এবং কখনও খ্রিস্টান বা শিখ) তরুণীদের প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করেন, পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করেন। এই ধারণার সমর্থকেরা দাবি করেন, এর মাধ্যমে জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলানোর একটি বৃহত্তর পরিকল্পনা থাকতে পারে।তবে এই দাবির বিরোধীরা বলেন, সংগঠিতভাবে এমন কোনও সর্বভারতীয় ষড়যন্ত্রের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁদের মতে, আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ককে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করা হয়েছে।
কোথা থেকে শুরু?
২০০৯ সালে কেরালায় কয়েকটি আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক ও বিয়েকে ঘিরে প্রথম ‘লাভ জিহাদ’ শব্দটি জাতীয় আলোচনায় আসে।অভিযোগ ওঠে, কয়েকজন হিন্দু তরুণীকে প্রেমের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়।তবে কেরালা পুলিশ পরে জানায়, সংগঠিত ‘লাভ জিহাদ’ চক্রের স্পষ্ট প্রমাণ তারা পায়নি।পরবর্তীতে একটি আলোচিত আন্তঃধর্মীয় বিয়ের মামলায় বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায়। আদালতের নির্দেশে তদন্ত হলেও বৃহৎ ষড়যন্ত্রের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তাহলে বিতর্ক থামল না কেন?
এই ঘটনার পর থেকেই বিজেপি এবং বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিষয়টিকে বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করে।তাদের বক্তব্য, প্রতারণা বা জোর করে ধর্মান্তর রুখতে কঠোর আইন প্রয়োজন।অন্যদিকে বিরোধী দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং বহু আইন বিশেষজ্ঞের মতে, আন্তঃধর্মীয় বিয়েকে সন্দেহের চোখে দেখানো হচ্ছে এবং এই ইস্যু রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
২০১৪-র পর কেন এত গুরুত্ব পেল?
২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার আরও জোরদার হয়।বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, গুজরাটসহ একাধিক রাজ্যে ধর্মান্তর-বিরোধী আইন আনা হয়।এই আইনগুলোর সরকারি নাম ভিন্ন হলেও রাজনৈতিক আলোচনায় এগুলোকে অনেকেই ‘লাভ জিহাদ আইন’ বলে উল্লেখ করেন।
কাল দ্বিতীয় পর্ব—
