Amidst a heated atmosphere in the Assembly, Kunal was removed by the marshals.
কলকাতা: বুধবার দুপুরে বিধানসভার ভেতরে পরিবেশ আচমকা উতপ্ত হয়ে ওঠে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট আলোচনার সময়। বক্তা ছিলেন মুর্শিদাবাদের বিধায়ক আখরুজ্জামান। তিনি যখন বক্তব্য রাখছেন, ঠিক সেই সময় নিজের আসন ছেড়ে সোজা তাঁর দিকে আসেন কালীঘাট পন্থী তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। একেবারে কাছে দাঁড়িয়ে বারবার তাঁকে বলতে দেখা যায় — “আপনি আমার নাম কেটে দিচ্ছেন কেন?”
আখরুজ্জামান অবশ্য সে কথায় কান না দিয়ে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কুণাল ঘোষের ক্রমাগত বাধা দিলেও আখরুজ্জাম সে কথায় কর্ণপাত করেন নি। আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে স্পিকার কুণালকে বারবার নিজের জায়গায় ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিছুটা হুশিয়ারির সুরেই জানান, নিজের আসনে না বসলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন তিনি।
কিন্তু কুণাল ঘোষ স্পিকারের সেই নির্দেশ মানতে চাননি। এরপরই স্পিকারের নির্দেশে তৎপর হয়ে ওঠেন বিধানসভার মার্শালরা। কুণালকে ঘিরে ফেলেন তাঁরা। কিন্তু কুণাল ঘোষকে সরিয়ে নেওয়া সহজ হয়নি; শুরু হয় তীব্র ধস্তাধস্তি। মার্শালদের সঙ্গে টানাটানির মাঝেই মেঝেতে পড়ে যান কুণাল। অবশেষে অন্য উপায় না দেখে নিরাপত্তারক্ষী ও মার্শালরা একপ্রকার জোড় জবরদস্তি করে কুণালকে চ্যাংদোলা করে অধিবেশন কক্ষের বাইরে নিয়ে যান। কুণাল ঘোষকে বের করার পর প্রতিবাদ জানিয়ে বিধানসভা কক্ষ ত্যাগ করেন কালীঘাট পন্থী তৃণমূলের বাকি বিধায়করা।
ঘটনার পরপরই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই নজিরবিহীন ঘটনার চরম সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবাদ অনেক রকম হয়। কিন্তু অসভ্যতার একটা সীমা থাকে। আমরাও বিরোধী আসনে ছিলাম, কিন্তু এমন চরম অসভ্যতামি আগে কখনও দেখিনি। আখরুজ্জামান সাহেব বহুদিনের বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী। ওনার বাবা হবিবুর রহমান সাহেব মুর্শিদাবাদ জেলার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। আজ যেভাবে মমতাপন্থী তৃণমূলের সদস্য তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে এগিয়ে গেলেন, আমি বিধানসভার দলনেতা হিসেবে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”ঘটনা প্রসঙ্গে পরবর্তীতে আখরুজ্জামান বলেন, “আমাদের শিবিরে ৮০ জন বিধায়ক রয়েছেন। সবাইকে বলতে দিলে তো সময় হবে না। কে বলবে বা কে বলবে না— সেটা আমরাই ঠিক করব।”
ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। এরপরই বিধানসভার ৩৪৮/২ ধারায় নোটিস দিয়ে কুণাল ঘোষকে গোটা অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করার প্রস্তাব পেশ করেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “অনৈতিকভাবে বিরোধী চিফ হুইপকে আক্রমণ করতে গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। আমি আমার রাজনৈতিক জীবনে এমন দৃশ্য দেখিনি।”
তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হস্তক্ষেপ করে নরম সুরেই বলেন, “কাউকে খামোকা বিখ্যাত করার দরকার নেই। শাস্তিস্বরূপ একদিনের জন্যই সাসপেন্ড করা হোক।” এরপরেই ধ্বনিভোটে কুণাল ঘোষকে একদিনের জন্য বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়।সব মিলিয়ে বুধবারের বিধানসভা সাক্ষী থাকল বেনজির রাজনৈতিক উত্তাপ, হাতাহাতি আর মার্শাল দিয়ে বিধায়ক টেনে বার করার এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের।
