Rahul Gandhi has demanded Amit Shah’s resignation.
ডিজিটাল ডেস্ক: আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশি নির্যাতন ও ছররা গুলি (pellet guns) চালানোর ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই ঘটনার দায় নিয়ে অমিত শাহকে হয় পদত্যাগ করতে হবে, না হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অবিলম্বে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করতে হবে। একই সঙ্গে গোটা ঘটনার তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে দিল্লি পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাহিনীকে নিশানা করে রাহুল গান্ধি একাধিক বিস্ফোরক দাবি তোলেন।
‘হয় দোষী, নয় অযোগ্য’— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তোপ রাহুলের
আক্রান্ত ছাত্রদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা পুলিশ বা বাহিনীর সমস্ত পদক্ষেপই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে চলে।
“আমি সংসদ ভবনে নিজের চোখে দেখেছি অমিত শাহ পুলিশ অফিসারদের ফোন করছেন। আমি জীতেন্দ্র সিংহকেও অমিত শাহের কাছ থেকে বারবার ফোন পেতে দেখেছি। দিল্লিতে ঠিক কী ঘটছে, সে বিষয়ে উনি সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিলেন।”
বিরোধী দলনেতার যুক্তি, অমিত শাহ হয় নিজে ছাত্রদের ওপর ছররা গুলি এবং পেরেক লাগানো লাঠি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন, অথবা তিনি জানতেনই না যে তাঁর পুলিশ কী করছে।
রাহুলের কথায়:
- যদি নির্দেশ দিয়ে থাকেন: তবে তিনি অপরাধে সমানভাবে অংশীদার (culpable)।
- যদি না জেনে থাকেন: তবে তিনি নিজের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অযোগ্য (incompetent)।
- যদি নির্দেশ দিয়ে থাকেন: তবে তিনি অপরাধে সমানভাবে অংশীদার (culpable)।
- যদি না জেনে থাকেন: তবে তিনি নিজের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অযোগ্য (incompetent)।
“উভয় অবস্থাতেই অমিত শাহের পদে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই, তাঁকে যেতেই হবে,” জোর গলায় মন্তব্য করেন রাহুল।
‘তোমাদের ওপর যারা অত্যাচার চালিয়েছে, দায়িত্ব তাঁরই’
আন্দোলনকারী ছাত্রদের উদ্দেশে একটি ছবি দেখিয়ে রাহুল বলেন, “এই লোকটাই তোমাদের ওপর হওয়া সমস্ত অত্যাচারের জন্য দায়ী। অবশ্যই উনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই চলেন, কিন্তু এই লোকটাই তোমাদের মারধর করেছে, অপমান করেছে এবং ছররা গুলি চালিয়েছে।”তিনি মনে করিয়ে দেন, দিল্লি পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)— দুই শক্তিই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে। তাই এই দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এড়াতে পারেন না।
উধাও চিঠি, মেেনি উত্তর: কেন্দ্রের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
গত ২৫ জুলাই (২০২৬) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পাঠানো নিজের চিঠির কথা উল্লেখ করে রাহুল আফসোস প্রকাশ করেন। তিনি জানান, চিঠিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছিল:
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আপনি কি ছাত্রদের বিরুদ্ধে ছররা গুলির মতো প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগে সম্মতি দিয়েছিলেন?
- যদি আপনি না দিয়ে থাকেন, তবে এই নির্দেশ কে দিয়েছিল?
- সিভিল ড্রেসে বা সাধারণ পোশাকে যাদের ছাত্রদের লাঠি দিয়ে পেটাতে দেখা গেছে, তারা কি পুলিশ কর্মী নাকি অন্য কোনো স্বেচ্ছাসেবী? তাদের কে পাঠাল?
রাহুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশ্নের উত্তর তো দূরের কথা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে আমার চিঠি পৌঁছানোর একটি প্রাপ্তিস্বীকারপত্র (acknowledgement) পর্যন্ত পাঠানো হয়নি।”
‘বিচার আমরা এনেই ছাড়ব’: বিরোধীদের গ্যারান্টি
আক্রান্ত ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে রাহুলের আশ্বাস, কংগ্রেস এবং বিরোধী জোট নিশ্চিত করবে যাতে সব ছাত্র ন্যায়বিচার পায়। তিনি জানান, পুলিশের সমস্ত ভিডিও এবং ছবি ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দোষী পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।“আজ হোক বা কাল, হিসাব ওদের দিতেই হবে। এটা ছাত্রদের প্রতি বিরোধী জোটের গ্যারান্টি,” মন্তব্য রাহুলের।
সংসদে কণ্ঠরোধের অভিযোগ: ‘কখনও ক্ষমা চাইব না’
সংসদের ভেতরেও তাঁকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন বিরোধী দলনেতা। স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও লোকসভায় তাঁকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হয়নি। অথচ কিরেন রিজিজু বা রাজনাথ সিংদের থামানো হয়নি।রাহুল বলেন, “আমাকে না বলতে দেওয়ার একটাই বাহানা দেওয়া হয়েছিল— আমি নাকি অমিত শাহের বিরুদ্ধে কথা বলেছি! আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, বিজেপি, আরএসএস বা তাদের সঙ্গে যুক্ত কারও কাছে আমি কখনোই ক্ষমা চাইব না। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমার অধিকার।”
