যাদবপুরের বুকে চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর: “গেরুয়ার অপমান সহ্য করব না”

Suvendu Adhikari issues a stern warning in the heart of Jadavpur.

বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের আবহে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডের সামনে এক বিশাল প্রতিবাদী সমাবেশ ও পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন একাধিক সাধু-সন্ন্যাসী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে কড়া ভাষায় দেশবিরোধী স্লোগান ও গেরুয়া পতাকার অবমাননার বিরুদ্ধে সুর চড়ান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ ও সনাতন সংস্কৃতির ভূমিতে দাঁড়িয়ে দেশবিরোধী মানসিকতা বা গেরুয়াকে অপমান করা হলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

“অপশব্দ বলার আগে পাঁচবার ভাববেন”

সমাবেশে উপস্থিত উপস্থিত জনতাকে সম্বোধন করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “শুধু সতর্ক করে দিয়ে গেলাম। গেরুয়া নিয়ে, আধ্যাত্মিক জাগরণের এই পশ্চিমবঙ্গে অপশব্দ বলা বা লেখার ক্ষেত্রে এরপরে পাঁচবার ভাববেন। গেরুয়ার অপমান আমরা সহ্য করব না।”

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কেবল কোনো সাধারণ ক্যাম্পাস নয়, এটি সেন্টার্স অফ এক্সিলেন্স এবং ঋষি অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্যদেব ও স্বামী প্রণবানন্দের পুণ্যভূমি। অথচ সেখানে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ কিংবা ‘কিষাণজিকে রেড স্যালুট’-এর মতো স্লোগান তোলা হচ্ছে।

‘আজাদি গ্যাং’-কে শিকড়সহ উপড়ে ফেলার শপথ

বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ও অতি-বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডকে নিশানা করে বিরোধী দলনেতা চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কিসেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকেদের, আর যারা গেরুয়া তাণ্ডব লিখেছেন, তাদের শিকড়সহ তুলে ফেলব আমি। এদের কীভাবে সাফ করতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের লোক জানে।”

নিজের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি যোগ করেন, “আমি ২০১১-তে পণ করেছিলাম কমিউনিস্টকে সরাব। আমি পণ করেছিলাম মোদিজির নেতৃত্বে ২৬-এ জামাতি সরকারকে সরাব। আপনাদের সাহায্যে সেটা হয়েছে।”

উচ্চশিক্ষা নিয়ে কালই বিধানসভায় উচ্চতর বিল ও বিশেষ বার্তা

উচ্চশিক্ষার মান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কেও কথা বলেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যপাল মহাশয়ের সম্মতি মেলার পর বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক বিল আসতে চলেছে।

তিনি আরও জানান, ইন্টার-ইউনিভার্সিটি ট্রান্সফার নীতি চালু করা সহ অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের কল্যাণে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কাল বিধানসভায় পরিষদের আলোচনায় উচ্চশিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ করে তিনি নিজে ১৫ থেকে ২০ মিনিট এ বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন বলেও জানান।

গীতাপাঠ ও হনুমান চালিসা পাঠের ডাক

সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রবাদী মূল্যবোধ পুনর্বাসনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ব্যানারে আগামী দিনে দু’টি বড় কর্মসূচির ঘোষণা করেন তিনি। ১. যাদবপুরের বুকে এক বিরাট গীতাপাঠ অনুষ্ঠান। ২. দেশবিরোধী শক্তিকে বার্তা দিতে বৃহৎ হনুমান চালিসা পাঠ

মঞ্চে পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ, পূজ্যপাদ মহারাজবৃন্দ সহ বিজেপি বিধায়ক ও নেতৃবৃন্দ—যেমন তাপস রায়, কৌশিক চৌধুরী, সর্বরী সরকার ও মনোরঞ্জন প্রামাণিক উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষে “জয় শ্রী রাম” ও “ভারত মাতা কি জয়” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ৮বি বাসস্ট্যান্ড চত্বর।