সব হারিয়েও হার মানেননি! ধর্মতলার পথে মমতার প্রত্যাবর্তনের বার্তা

Mamata Banerjee Rally against Hawker Eviction

নিজস্ব প্রতিবেদন:

একটা সময় ছিল, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চারপাশে ছিল অসংখ্য বিশ্বস্ত সৈনিক। বিপদে-আপদে যাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, নিজের মানুষ বলে আগলে রেখেছেন, তাঁদের অনেকেই আজ আর তাঁর সঙ্গে নেই। ভোটে পরাজয়ের মাত্র এক মাসের মধ্যেই যেন তৃণমূলের সাজানো বাগানে ঝড় বয়ে গেছে। একের পর এক সাংসদ, বিধায়ক ও নেতা দল ছেড়ে অন্য শিবিরে পাড়ি দিচ্ছেন। যাঁদের একসময় সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করতেন, তাঁদের অনেককেই আজ আর পাশে দেখা যাচ্ছে না।

জেলার পর জেলা থেকে হারিয়ে গিয়েছে দলের বহু পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা যেন আচমকাই দূরে সরে গিয়েছেন। রাজনৈতিক ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ অনেকটাই একা দেখাচ্ছে। দলের অন্দরেও অনিশ্চয়তা, বাইরে বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণ। সব মিলিয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁকে।

এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়তো শুভেন্দু অধিকারী। একসময় দিদির সামনে পড়লে যিনি প্রণাম করতেন, সেই শুভেন্দুই আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন তিনিই। আর সেই শুভেন্দুর নেতৃত্ব ও প্রভাবেই তৃণমূলের বহু নেতা-মন্ত্রী নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা খুঁজতে শুরু করেছেন।

যাঁরা একসময় সকাল-সন্ধ্যা শুভেন্দু অধিকারীর সমালোচনা করতেন, তাঁর বিরুদ্ধেই সরব থাকতেন, তাঁদের অনেককেই আজ তাঁর প্রশংসা করতে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে, কেউ বা নীরবে তাঁর শিবিরে জায়গা পাওয়ার অপেক্ষায়। রাজনৈতিক মহলে এখন এমন কথাও শোনা যাচ্ছে, শুভেন্দুর একটুখানি আশীর্বাদ বা গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার জন্য অনেক প্রাক্তন তৃণমূল নেতাই মুখিয়ে রয়েছেন। সময়ের চাকা যে কত দ্রুত ঘুরতে পারে, বাংলার রাজনীতি যেন তারই সাক্ষী।

অন্যদিকে, আজই তপসিয়ার সংস্কার হওয়া বিশাল তৃণমূল ভবন এবং মেট্রোপলিটানের অস্থায়ী ঠিকানাও হাতছাড়া হয়েছে। একের পর এক ধাক্কা এসে আঘাত করছে দলকে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে যেন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে তৃণমূল।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার আচমকা রাস্তায় নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে কোনও বড় প্রস্তুতি বা আগাম ঘোষণা ছাড়াই তিনি পৌঁছে গেলেন ধর্মতলায়। সঙ্গে ছিলেন কুণাল ঘোষ ও দোলা সেন। খবর ছড়াতেই সাধারণ মানুষ, দলীয় কর্মী-সমর্থকরা একে একে ভিড় জমাতে শুরু করেন। বিকেলের সেই জমায়েত যেন অনেকদিন পর মমতার পুরনো আন্দোলনের দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।

রাজনীতিতে যখন চারদিক থেকে চাপ বাড়ছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও পথ খুঁজছেন আন্দোলনের মাটিতে। কারণ তিনি জানেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল রাজপথের লড়াই। বারবার প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও তিনি আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

আজও সেই চেনা লড়াকু মনোভাবেরই ইঙ্গিত মিলছে। চারপাশে যতই রাজনৈতিক নিঃসঙ্গতা ঘিরে ধরুক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন বোঝাতে চাইছেন—লড়াই এখনও শেষ হয়নি। হার মানার মানুষ তিনি নন। যখন অনেকেই সরে গিয়েছেন, তখনও তিনি মানুষের ভিড়ের মধ্যেই নিজের শক্তি খুঁজছেন। আবারও রাজপথকে হাতিয়ার করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলার এই প্রবীণ নেত্রী।