Soman Wangchuk Hospitalised
নয়াদিল্লি: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম আর নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২০ দিন ধরে অনশনে বসেছিলেন পরিবেশ ও শিক্ষাকর্মী সোনম ওয়াংচুক। কিন্তু শনিবার সকালে আচমকাই দিল্লি পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়েছিল, তাই এই সিদ্ধান্ত। এদিকে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই যন্তর মন্তর চত্বরে থিকথিক করছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। পুরো এলাকা কার্যত ঘিরে ফেলা হয়েছে।
দ্রুত কমছে ওজন, উদ্বেগ চিকিৎসকদের
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকার ফলে সোনম ওয়াংচুকের শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। দিল্লি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের ডাক্তার সতীশ লাম্বা তাঁর স্বাস্থ্যের খবর দিয়ে জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে ওয়াংচুকের ওজন কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬ কেজি ৫৫ গ্রাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টাতেই তাঁর ওজন কমেছে ৩৫০ গ্রাম।
তাঁকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাঁর শরীরের অবস্থা ছিল এই রকম:
- রক্তচাপ: ১০৮/৬৮
- রক্তে সুগারের মাত্রা: ৭০ মিলিগ্রাম
- হার্টবিট বা পালস রেট: মিনিটে ৭২ বার
ডাক্তারদের মতে, আর একটু দেরি হলে তাঁর লিভার বা কিডনির মতো জরুরি অঙ্গগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারত।
মাঝরাতে হামলার অভিযোগ
এই হুলস্থুলের মধ্যেই শুক্রবার মাঝরাতে একটা নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সভাপতি অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার রাতে যন্তর মন্তরের আন্দোলন মঞ্চে সোনম ওয়াংচুকের ওপর চড়াও হয়েছিল কিছু লোক।
অভিজিৎ বাবু বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চলছিল। সেখানে এসে এই রকম হামলা করা সত্যি নিন্দনীয়।”
তবে পুলিশ এই হামলার খবরের সত্যতা স্বীকার করেনি। প্রশাসনের দাবি, শুধুমাত্র চিকিৎসার খাতিরেই ওয়াংচুককে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে。
কেন এই আন্দোলন?
দেশজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থার প্রতিবাদে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার নৈতিক দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেই গত ২৮ জুন থেকে এখানে আমরণ অনশনে বসেন সোনম ওয়াংচুক।
শনিবার সকালে তাঁকে পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর সমর্থক ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট কথা—পুলিশ অনশন মঞ্চ ফাঁকা করতে পারলেও, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা আর ছাত্রছাত্রীদের অধিকার আদায়ের এই লড়াই হাসপাতাল থেকেও জারি থাকবে।
