“Bad roads are causing marriage alliances to fall through!”
করণদীঘি: ভাঙা রাস্তা শুধু যাতায়াতের সমস্যা নয়, তা যে একটা আস্ত গ্রামের তরুণ-তরুণীদের সামাজিক জীবনে কতটা বড় অভিশাপ হয়ে উঠতে পারে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদীঘি ব্লকের গোপলা গ্রাম। গ্রামের রাস্তা এতটাই নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে যে, এখন গ্রামের মেয়েদের বিয়ে দেওয়াই দায় হয়ে পড়েছে। ভাঙা রাস্তা আর কাদার দশা দেখে বাইরের কোনো পরিবারই এই গ্রামে বিয়ের সম্বন্ধ করতে আসতে চাইছে না! তৃণমূল পরিচালিত রসাখোয়া ১ গ্রাম পঞ্চায়তের এই গ্রামটি খোদ করণদীঘি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেহা আজমের খাসতালুক বলেই পরিচিত। অথচ, সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই গ্রামের একমাত্র ঢোকার রাস্তাটি এখন জলের তলায়।
“ভালো পাত্র পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে”
রাস্তা ভাঙা ও জলমগ্ন হওয়ার এই মারাত্মক সামাজিক প্রভাব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গ্রামের বাসিন্দা কুস্তুর হক। তিনি অত্যন্ত বেদনার সাথে জানান-“গ্রামে ঢোকার রাস্তা এতটাই খারাপ যে, আত্মীয়-স্বজনরা আসতে চান না। এমনকি রাস্তার এই নরককুণ্ড দশা দেখে গ্রামের মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার জন্য ভালো জামাই খুঁজে পাওয়াও মুশকিল হয়ে পড়েছে। কোনো পরিবার এই গ্রামে সম্বন্ধ করতে আসতে চাইছে না।”
বাম আমলে পড়েছিল মাটি, তৃণমূল জমানায় শুধুই বঞ্চনা
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে এই রাস্তায় অন্তত মাটি ফেলার কাজ হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর ঘাসফুল শিবিরের দীর্ঘ শাসনে এই রাস্তায় ‘এক ঝুড়ি মাটিও’ ফেলার সৌজন্য দেখায়নি প্রশাসন। ফলে বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে আজ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মালেক আকতারের কথায়, “ভোটের সময় রাজনৈতিক দলের নেতারা আসে, বড় বড় আশ্বাস দেয়। কিন্তু ভোট মিটে গেলেই কাজের কাজ কিছুই হয় না।”
স্তব্ধ জনজীবন, ঘরে ঘরে অনাহার
বর্ষা আসতেই প্রায় ১০০টি পরিবারের এই গ্রামে জনজীবন কার্যত স্তব্ধ। রাস্তায় হাঁটু সমান জল আর কাদার কারণে গ্রামের খুদে পড়ুয়ারা স্কুলে যেতে পারছে না। গ্রামের বহু বেকার যুবক টোটো চালিয়ে কোনো রকমে সংসার নির্বাহ করতেন, কিন্তু রাস্তা সচল না থাকায় তাঁরাও আজ কর্মহীন। ফলে ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে চরম আর্থিক সংকট। এই জমা জল শুকোতে শুকোতে আশ্বিন-কার্তিক মাস কেটে যায়, অর্থাৎ বছরের একটা বড় সময় এই নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হয় তাঁদের।
উন্নয়নের ঢাক পেটানো শাসকদলের এই চরম উদাসীনতা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধী শিবিরও। গ্রামবাসীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ভোটের সময় যারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট ব্যাঙ্ক ভরিয়েছিলেন, তারা যদি দ্রুত এই রাস্তার সমস্যার সমাধান না করেন, তবে আগামী দিনে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
