Sonam Wangchuk ends 26-day hunger strike.
নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই: লাখ লাখ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের ক্ষোভের মুখে পড়ে অবশেষে নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কোনো সামান্য ত্রুটি নয়, বরং কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ওপর ‘অন্যায়’ বলে বর্ণনা করে অপরাধীদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে, জাতীয় রাজনীতিতে স্বস্তি এনে দীর্ঘ ২৬ দিন পর অনশন ভঙ্গ করলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। তবে কেন্দ্র একাধিক পদক্ষেপ নিলেও, প্রতিবাদী ছাত্রদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের ঘটনায় মেলেনি তদন্তের আশ্বাস।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সোশাল মিডিয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ভুল নয়; এটি দেশের কোটি কোটি পরিশ্রমী শিক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারের ওপর নেমে আসা এক মারাত্মক অবিচার। এই তীব্র বেদনা আমরা উপলব্ধি করেছি। গত আড়াই মাসে আমরা একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে ইতিমধ্যেই গরাদের পেছনে পাঠানো হয়েছে।” এর আগেই দিনে তিনি ঘোষণা করেন, এই ধরনের পাবলিক পরীক্ষার জালিয়াতি রুখতে এবং অপরাধীদের দ্রুত সাজা দিতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপে দিল্লি হাইকোর্ট বিচারক অনু গ্রোভার বালিগাকে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করেছে। এই আদালত পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় জালিয়াতি ও অপরাধমূলক মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে।
অন্যদিকে, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও ড. জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ লাদাখ অ্যাপেক্স বডির প্রবীণ নেতাদের উপস্থিতিতে রাতভর নাটকের পর যন্তর মন্তরে নিজের ২৬ দিনের দীর্ঘ অনশন ভাঙেন সোনাম ওয়াংচুক। অনশন ভাঙার পর সোশাল মিডিয়া পোস্টে ওয়াংচুক জানান, বিভিন্ন দল মিলিয়ে প্রায় ৬৫ জন সাংসদ তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন অথবা অনশন প্রত্যাহারের চিঠি পাঠিয়েছিলেন। একই সাথে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হিংসার পথ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার ও সজাগ থাকার বার্তা দেন তিনি।
সমাজকর্মী ওয়াংচুক অনশন ভঙ্গ করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে যন্তর মন্তরে অবস্থানরত কক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্বস্তি প্রকাশের পাশাপাশি জানিয়ে দেন, ওয়াংচুক স্যার অনশন ভাঙলেও আন্দোলন থামছে না। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি জারি থাকবে।
সরকারের এই তৎপরতার মাঝেই গভীর রাতে দিল্লিতে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়ে যায়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে একাধিক বিরোধী দলের সাংসদরা আচমকাই রাজঘাটের গান্ধী আশ্রমে পৌঁছান। সেখানে তাঁরা মোদী সরকারের শিক্ষানীতি ও পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার তীব্র প্রতিবাদ জানান। রাহুল গান্ধী স্পষ্ট বলেন, “ছাত্রদের এই লড়াই কেবল একটি পরীক্ষার আন্দোলন নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ বাঁচানোর সংগ্রাম। বিরোধীরা শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে বিচার ছিনিয়ে আনবে।”
তবে কেন্দ্রের প্রশাসনিক এই দৌড়ঝাঁপের মধ্যেও ঘনীভূত হচ্ছে অন্য ক্ষোভ। গত ২০ জুলাই সংসদে মিছিলের সময় নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহারের একাধিক ভিডিও সামনে এসেছিল। সেই ঘটনার তিন দিন পার হয়ে গেলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) বা দিল্লি পুলিশ কোনো স্পষ্টীকরণ দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষার কথা বললেও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের তদন্ত নিয়ে কেন্দ্র কোনো লিখিত বা মৌখিক আশ্বাস না দেওয়ায় ক্ষোভের আঁচ এখনও তুঙ্গে।
