The Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Amendment Bill, 2026
নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশজুড়ে বিভিন্ন সর্বভারতীয় ও রাজ্যভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং জালিয়াতি রুখতে আরও কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্র। সংসদে পেশ করা হলো ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’।পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করতে এই সংশোধনী বিলে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত ও ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচার শেষ করার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।সাধারণ পাঠকের সুবিধার্থে পুরনো আইনের সঙ্গে নতুন প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলের মূল পার্থক্য ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সহজ বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো—
১. কড়া সাজা ও জরিমানার হার বৃদ্ধি (ধারা ১০ ও ১১-র সংশোধন)
নতুন বিলে সাধারণ অনিয়ম থেকে শুরু করে সংগঠিত অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর শাস্তির সংস্থান রাখা হয়েছে:
- সাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে: আগে যেখানে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা ছিল, নতুন বিলে তা বাড়িয়ে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- গুরুতর অনিয়মে: আগে শাস্তি ছিল ৩ বছর জেল ও ১ কোটি টাকা জরিমানা। প্রস্তাবিত বিলে তা বাড়িয়ে ৫ বছর জেল এবং ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
- সংগঠিত অপরাধ চক্রের (Paper Leak Gangs) ক্ষেত্রে: আগে সংগঠিত অপরাধের জন্য ছিল ৪ বছরের কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা। নতুন বিলে সাজা একলাফে বাড়িয়ে ৮ বছর কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
- অন্যান্য প্রশাসনিক অনিয়মে (ধারা ১১): আগে ৫ বছরের জেল ও ১ কোটি টাকা জরিমানা থাকলেও, নতুন প্রস্তাবে ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।
২. দ্রুত তদন্ত ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (ধারা ১২ ও ১২এ)
তদন্ত প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে এবং ঝুলে থাকা বন্ধ করতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
- তদন্তের সময়সীমা মাত্র ২ মাস: পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) কিংবা নতুন গঠিত স্পেশাল টাস্ক ফোর্স—যেই তদন্ত করুক না কেন, ২ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
- বিশেষ টাস্ক ফোর্স (Special Task Force): কেন্দ্র সরকার চাইলে নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা কেলেঙ্কারির জন্য ‘স্পেশাল টাস্ক ফোর্স’ গঠন করতে পারবে। টাস্ক ফোর্স গঠিত হলে পুরো তদন্তভার কেবল তারাই সামলাবে।
৩. ফাস্ট ট্র্যাক আদালত ও ৩ মাসে বিচার (ধারা ১২এ)
মামলা যাতে বছরের পর বছর আদালতে ঝুলে না থাকে, তার জন্য অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে:
- Special Fast Track Court: হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পরামর্শে প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালত তৈরি হবে। পুরনো ঝুলে থাকা মামলাগুলোও এই আদালতে স্থানান্তরিত হবে।
- দৈনিক শুনানি ও দ্রুত রায়: আদালতে অকারণে শুনানি মুলতবি করা যাবে না, প্রতিদিন ধারাবাহিক শুনানি চলবে। চার্জশিট পেশের ৩ মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় দিতে হবে।
- বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি: দ্রুত মামলা পরিচালনার জন্য রাজ্য সরকারগুলোকে ‘স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর’ বা বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগ করতে বলা হয়েছে।
৪. আপিল ব্যবস্থা ও জামিনের নিয়ম (ধারা ১২বি)
- স্পেশাল ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চে আপিল করা যাবে।
- আপিল দায়েরের সময়সীমা ৩০ দিন (বিশেষ কারণে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ছাড়যোগ্য)।
- হাইকোর্টকে এই আপিল মামলাগুলো যতটা সম্ভব ৩ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। জামিন সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধেও একইভাবে দ্রুত আপিল করা যাবে।
- এক নজরে: পুরনো আইন বনাম নতুন প্রস্তাবিত বিলের মূল পার্থক্য
- সর্বোচ্চ কারাদণ্ড: পুরনো আইনে কারাদণ্ডের মেয়াদ ছিল ৩ থেকে ৫ বছর, যা নতুন প্রস্তাবিত বিলে বাড়িয়ে ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত করা হয়েছে।
- সর্বোচ্চ জরিমানা: আগে জরিমানার পরিমাণ ছিল ১০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা, নতুন প্রস্তাবে তা বহুগুণ বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে।
- তদন্তের সময়সীমা: আগে তদন্ত শেষ করার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত ছিল না, কিন্তু নতুন বিলে তা সর্বোচ্চ ২ মাসের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা আনা হয়েছে।
- মামলার বিচার: আগে সাধারণ আদালতে মামলা চলায় দীর্ঘ সময় লাগত, এখন Special Fast Track Court-এ মাত্র ৩ মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- তদন্ত সংস্থা: আগে মূলত কেবল পুলিশ বা সাধারণ কেন্দ্রীয় সংস্থার ওপর তদন্ত নির্ভর করত, এখন বিশেষ দরকারে ডেডিকেটেড ‘বিশেষ টাস্ক ফোর্স’ (STF) গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
- আপিল ব্যবস্থা: সাধারণ পদ্ধতির পরিবর্তে এখন সরাসরি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করা যাবে এবং সেই আপিলও যতটা সম্ভব ৩ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
