Controversy erupts over Kerala BJP leader’s call to shoot protesters.
বিশেষ প্রতিবেদন:
কেরালার হিন্দুত্ববাদী ভাবাদর্শী এবং বিজেপি (BJP)-র রাজ্য বুদ্ধিজীবী সেলের প্রাক্তন প্রধান টি.জি. মোহনদাসের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জাতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ (The Hindu)-তে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো এবং আন্দোলনকারী মহিলাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে তিনি বর্তমানে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
আন্দোলন দমনে উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ
‘দ্য হিন্দু’-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রবিবার টি.জি. মোহনদাসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল Pathrika-য় প্রকাশিত একটি ৩০ মিনিটের ভিডিওতে তিনি নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কিভাবে সামলানো উচিত, তা নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন।
ভিডিওতে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ‘দ্য হিন্দু’ জানিয়েছে, তিনি বলেন—
“আমি জান্তর মন্তরের চারপাশে প্রায় চার বর্গকিলোমিটার এলাকায় কার্ফু জারি করব। তারপর জনতাকে সরে যাওয়ার জন্য তিনবার ঘোষণা করব। এরপর আমি গুলি চালাব। মানুষ প্রাণ বাঁচাতে যে যার মতো পালাবে। কিছু লোক মারা যেতে পারে, কেউ কেউ পঙ্গু হতে পারে। চার ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যাবে। তারপর আমি মৃতদেহগুলো তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাব।”
মহিলাদের প্রতি কুরুচিকর মন্তব্যে ক্ষোভ
‘দ্য হিন্দু’-তে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বিতর্ক কেবল আন্দোলনকারীদের গুলি করার হুমকিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অপর একটি ভিডিওতে আন্দোলনকারী ধর্মনিরপেক্ষ ও বামপন্থী মহিলাদের বিষয়ে তিনি চরম অসংবেদনশীল ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সংবাদমাধ্যমটির রিপোর্ট অনুযায়ী, মোহনদাস দাবি করেন যে আন্দোলনকারী বিশেষ ভাবধারার নারীরা নাকি “গণধর্ষিত হতে পছন্দ করেন” এবং এদের বিষয়ে কোনো অভিযোগও দায়ের হবে না। তাঁর এই মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
ঘটনাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে রাজ্যসভার সাংসদ এ. এ. রহিম ‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, টি.জি. মোহনদাসের এই ধরনের উসকানিমূলক ও অসংবেদনশীল বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’-তে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা বুদ্ধিজীবী হিসেবে এ ধরনের বক্তব্য দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর সর্বমহলের।
