Sukhendu Sekhar Roy Resigned
বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমশ জোরদার হয়েছে ভাঙনের জল্পনা। ইতিমধ্যেই একদল বিধায়ক নিজেদের ‘নব তৃণমূল’ বলে দাবি করে পৃথক অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, তারাই প্রকৃত তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি নিয়েও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
এই আবহেই সংসদীয় রাজনীতিতেও তৃণমূলের সামনে নতুন সংকটের ইঙ্গিত মিলল। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে যোগ দিতে দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লিতে রয়েছেন, ঠিক সেই সময়েই দলের বর্ষীয়ান নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় দল এবং সাংসদ পদ—উভয় থেকেই ইস্তফা দেন।
পদত্যাগপত্র জমা দিতে সংসদে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সুখেন্দু শেখর রায়ের বক্তব্য, “যখন কোনও প্রশাসক বা শাসকদল সাধারণ মানুষের ভাষা বুঝতে অক্ষম হয়ে পড়ে, তখন তার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। বামফ্রন্টকে ক্ষমতা থেকে সরানোই তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য ছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দল তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আজ তৃণমূলের জাতীয় স্তরের নেতাদের সম্পত্তির নিরপেক্ষ অডিট হওয়া প্রয়োজন। দল ও নেতৃত্বের আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দলে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। দলের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মীরা আজ কোণঠাসা এবং উপেক্ষিত।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন সুখেন্দু শেখর রায়। তাঁর এই পদত্যাগ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও চর্চার জন্ম দিয়েছে
