Rahul Gandhi Lecture on India Block
নিজস্ব প্রতিবেদন:
“আপনাদের অনেকেই যেমন বলেছেন, কংগ্রেসের ভূমিকা হল ভালোবাসা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে আপনাদের সকলকে একত্রিত রাখা।”
“আমি আজ আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাতে চাই। এখানে উপস্থিত থাকার জন্য ধন্যবাদ।আজ যে বিষয়গুলো কংগ্রেস পার্টি সম্পর্কে বলা হয়েছে, তার জবাব দেওয়া আমার কাজ নয়। আমার কাজ হল শিবের নীলকণ্ঠ রূপ অনুসরণ করা—সমস্ত বিষ পান করে নেওয়া। আমার বা কংগ্রেস পার্টির বিরুদ্ধে যে সমালোচনাই করা হোক না কেন, আমরা তা গ্রহণ করব এবং হাসিমুখে গ্রহণ করব।আমরা আপনাদের খুশি করার চেষ্টা করব, কারণ আমাদের ভূমিকা আপনাদের থেকে মৌলিকভাবে আলাদা। আমাদের ভূমিকা হলো ভালোবাসা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে আপনাদের সবাইকে একত্রিত রাখা।২০০৪ সাল থেকে আমি কংগ্রেস পার্টির সদস্য। আমার প্রথম নির্বাচনে লড়াই করার পর থেকেই আমি উপলব্ধি করেছি যে কংগ্রেস অন্য সব রাজনৈতিক দলের থেকে মৌলিকভাবে আলাদা। কারণ কংগ্রেস একটি প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবে জন্ম নিয়েছিল। ভারতীয় রাষ্ট্রের সুরক্ষা বা ক্ষমতার কাঠামোর উপর নির্ভর করে নয়, বরং সমতা ও ন্যায়ের আদর্শকে রক্ষা করার জন্য।আমরা আরএসএস-এর দর্শনের সম্পূর্ণ বিরোধী। কংগ্রেস কর্মীরা আরএসএস বা বিজেপির সঙ্গে আপস করার চেয়ে মৃত্যুকেও বেছে নেবে।
কিন্তু এই জোটের মধ্যে একটি বিভ্রান্তি রয়েছে। সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, আরজেডি এবং অন্যান্য দল এখনও বিশ্বাস করে যে অতীতে যেসব রাজনৈতিক হাতিয়ার ব্যবহার করে তারা সফল হয়েছে, সেগুলো এখনও কার্যকর থাকবে।সেই হাতিয়ারগুলো তখনই কাজ করত, যখন ভারতীয় রাষ্ট্র একটি নিরপেক্ষ ক্ষেত্র প্রদান করত। কিন্তু সেই নিরপেক্ষ ক্ষেত্র আর নেই।আজ বিজেপি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করে। তারা আমলাতন্ত্রকে প্রভাবিত করে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে প্রভাবিত করে, এমনকি নির্বাচন কমিশনের ওপরও তাদের প্রভাব রয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসে আমার অনেক বন্ধু আছেন। তারা নিশ্চিত ছিলেন যে তারা নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জিতবেন। আমি বারবার তাদের বলেছিলাম, তোমরা বাস্তবতা বুঝতে পারছ না। আমি মধ্যপ্রদেশে দেখেছি, ছত্তিশগড়ে দেখেছি, হরিয়ানায় দেখেছি, মহারাষ্ট্রে দেখেছি—কীভাবে পরিস্থিতি বদলেছে। তবুও অনেকেই এখনও তা মেনে নিতে চাইছেন না।কংগ্রেস একটি প্রতিরোধের দল। রাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়াও কংগ্রেস লড়াই করতে পারে। বরং প্রতিষ্ঠানগুলো যত বেশি আক্রমণের শিকার হবে, কংগ্রেস তত বেশি সংবিধান রক্ষার জন্য লড়বে।যদি রাজনৈতিক দলগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারে, তাহলে কী কাজ করবে? প্রতিরোধ কাজ করবে।আমি নিজের চোখে দেখেছি—যেখানেই প্রতিরোধ হয়েছে, সেখানেই ফল মিলেছে।
আমি এই দেশজুড়ে চার হাজার কিলোমিটার হেঁটেছি। প্রতিরোধ সফল হয়।আপনাদের রাজনৈতিক স্থাপত্যের দরকার নেই। আপনাদের আমলাতন্ত্রের দরকার নেই। গোয়েন্দা সংস্থার দরকার নেই। দরকার শুধু একটি মনোভাব—‘আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াব।এই সংগ্রাম কেবল একটি নির্বাচন জেতার লড়াই নয়। প্রকৃত নির্বাচন ইতিমধ্যেই জিতে গেছে। জনগণের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সমস্যাটা হল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরএসএসের প্রভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই কারণেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।তাই আমাদের প্রতিরোধের পথে হাঁটতে হবে। সিবিএসই-র বিরুদ্ধে অন্যায় হলে প্রতিরোধ করতে হবে। নিট পরীক্ষায় অন্যায় হলে প্রতিরোধ করতে হবে। গ্রেট নিকোবর প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন থাকলে প্রতিরোধ করতে হবে। ভারত জোড়ো যাত্রা ছিল সেই প্রতিরোধেরই একটি রূপ।প্রতিদিন সকালে উঠে নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন—‘আজ আমি কীভাবে প্রতিরোধ করতে পারি?’ তারপর সেই কাজটি করুন।”আমরা যদি একসঙ্গে দাঁড়াই, যদি মানুষের পাশে দাঁড়াই, তাহলে এই লড়াইয়ে জয় আসবেই।”
