রাহুল-অভিষেক সমীকরণে নতুন বার্তা, বিজেপি বিরোধিতায় আরও কাছাকাছি দুই নেতা

Rahul Stands by Abhishek Amid Political Violence Row

নিজস্ব সংবাদদাতা

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। উদ্বেগ প্রকাশ করে রাহুল গান্ধি লিখেছেন- “সোনারপুরে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।একজন সাংসদের উপর আক্রমণ শুধু একজন ব্যক্তির উপর আঘাত নয়—এটি তাঁকে নির্বাচিত করা মানুষের উপর এবং আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আঘাত।এটি বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতির এক কুৎসিত চেহারা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনও হিংসার কারণ হতে পারে না।কেন্দ্র সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার—উভয়েরই উচিত অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিশ্চিত করা যে কোনও জনপ্রতিনিধিকে, তিনি যে দলেরই হোন না কেন, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে না হয়।অভিষেকজি, এই কঠিন সময়ে আমার চিন্তা ও শুভকামনা আপনার এবং আপনার পরিবারের সঙ্গে রয়েছে। আপনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”

রাহুল গান্ধির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পাল্টা অভিষেক ব্যানার্জী লিখেছেন “রাহুলজি, আপনার উদ্বেগ ও নিরন্তর সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। ভারতের আত্মাকে রক্ষা করা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সুরক্ষিত রাখা এবং সংবিধানে বর্ণিত মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার লড়াইয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অংশ হিসেবে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য হয়ে আমি পাঁচটি দেশ সফর করেছি। সেখানে আমি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছি, দেশের পক্ষ সমর্থন করেছি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছি।আজ আমি সেই রাজনৈতিক হিংসা ও রাষ্ট্রপৃষ্ঠপোষিত সন্ত্রাসের শিকার, যা চালাচ্ছে তারাই, যারা নিজেদের জাতীয়তাবাদের রক্ষক বলে দাবি করে।

এটাই আজকের বিজেপির বাস্তব চেহারা। আপনি যদি তাদের সমর্থন করেন, তাহলে আপনি দেশপ্রেমিক। আপনি যদি তাদের প্রশ্ন করেন, তাহলে আপনি লক্ষ্যবস্তু হয়ে যান। আপনি যদি তাদের পাশে থাকেন, তাহলে আপনাকে সম্মানিত করা হয়। আর আপনি যদি তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তাহলে তারা আপনাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

আমি গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকির মুখোমুখি হতে রাজি, কিন্তু নিজের নীতি ও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করতে রাজি নই।ক্ষমতা সাময়িক, কিন্তু মানুষের ইচ্ছাশক্তি চিরস্থায়ী। আমি শুধু মানুষের কাছেই মাথা নত করব, ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের কাছে নয়।যারা গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে এবং দেশকে বিভক্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। ভারত ঐক্যবদ্ধ আছে এবং আমরা সবাই মিলে নিশ্চিত করব যে ভয়, ঘৃণা, হিংসা ও ভয় দেখানোর রাজনীতি পরাজিত হবে, আর শেষ পর্যন্ত মানুষের কণ্ঠস্বরই বিজয়ী হবে।”