Aroop Biswas writes to the bank to halt transactions in the party’s bank account.
নিজস্ব প্রতিবেদন
বিষয়: এআইটিসি (AITC)-র ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলিতে অবিলম্বে লেনদেন সীমিত রাখার অনুরোধ
“মহাশয়/মহাশয়া,
আমি, অরূপ বিশ্বাস, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (এআইটিসি)-এর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে বর্তমানে এআইটিসি-র কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি গুরুতর বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী নিজেদের এআইটিসি-র বৈধ প্রতিনিধি ও পদাধিকারী বলে দাবি করছে। এর ফলে এআইটিসি-র নামে রক্ষিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অধিকার কার রয়েছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংগঠনের তহবিল সুরক্ষিত রাখা এবং কোনও অননুমোদিত অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর, দায়ভার সৃষ্টি বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেন রোধ করার স্বার্থে, আমি আপনাদের অনুরোধ করছি যে, বিষয়টির যথাযথ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অথবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত, আপনাদের শাখায় রক্ষিত নিম্নলিখিত অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থা (Status Quo) বজায় রাখা হোক এবং কোনও ডেবিট লেনদেন বা পরিচালনাগত ম্যান্ডেটে পরিবর্তনের অনুমতি না দেওয়া হোক।এআইটিসি-র কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অতীতে আমাকে দলীয় অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক বিষয়ক কথিত অসঙ্গতির কারণে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার সময় আমি প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য চেকে স্বাক্ষর করতাম, যা পরে জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে দলীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত থাকত।
এটিও সর্বজনবিদিত যে দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, যার মধ্যে ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন এবং ৬০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন রয়েছেন, তাঁরা হয় দল ত্যাগ করেছেন অথবা বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের কর্তৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা এবং সম্পদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি গুরুতর বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
উপরোক্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, এই আশঙ্কা যথার্থ ও যুক্তিসঙ্গত যে দলের তহবিল এমন ব্যক্তিদের দ্বারা ব্যবহার, পরিচালনা বা আত্মসাৎ করা হতে পারে, যাঁদের তা করার বৈধ অনুমতি নেই। দলের তহবিল শুধুমাত্র সেই ব্যক্তিদের দ্বারাই সংরক্ষিত ও ব্যবহৃত হওয়া উচিত, যাঁরা দলের বৈধ ও অনুমোদিত নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং আইনি ভাবে দলের নাম, প্রতীক, সম্পদ ও অন্যান্য বিষয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগের অধিকার রাখেন। তাই উল্লিখিত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দলের তহবিল রক্ষার্থে এবং কোনও অননুমোদিত বা বিতর্কিত লেনদেন রোধ করতে অবিলম্বে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এছাড়াও, বর্তমানে সংগঠনের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে বিরোধ চলছে, তার প্রেক্ষিতে আমার দৃঢ় ও সৎ আশঙ্কা রয়েছে যে পূর্বে স্বাক্ষরিত চেকগুলি, যদি এখনও প্রচলনে থাকে বা যাঁদের কর্তৃত্ব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে তাঁদের হেফাজতে থাকে, তবে সেগুলি অপব্যবহার করা হতে পারে অথবা যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই নগদায়নের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। ফলে উল্লিখিত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অননুমোদিত লেনদেন সংঘটিত হওয়ার বাস্তব ও আসন্ন ঝুঁকি বিদ্যমান।
এই পরিস্থিতিতে, বিরোধ মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত কোনও ধরনের লেনদেন সংগঠন এবং আমাকে, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে, অযৌক্তিক দায়বদ্ধতা ও ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে এবং আরও জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।অতএব, জরুরি ও অবিলম্বে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সেই কারণে আমি অনুরোধ করছি যে, সংশ্লিষ্ট বিরোধ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উল্লিখিত অ্যাকাউন্টে কোনও ধরনের লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই অনুরোধ সম্পূর্ণরূপে সদিচ্ছা থেকে করা হয়েছে, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হল সংগঠনের তহবিল সুরক্ষিত রাখা, অ্যাকাউন্টের কোনও অননুমোদিত বা বিতর্কিত ব্যবহার রোধ করা এবং সংগঠনের অর্থসম্পদ সংরক্ষণ করা।
আপনাদের কাছে অনুরোধ, এই চিঠি প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে অ্যাকাউন্ট এবং সেখানে রক্ষিত তহবিলের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
ধন্যবাদান্তে,
বিনীত,
অরূপ বিশ্বাস
কোষাধ্যক্ষ
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)
এদিকে গত ৬ জুন তৃণমূলের কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে অরূপ বিশ্বাসকে সরিয়ে দিয়ে শুভাশীষ চক্রবর্তীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি অনেক আগেই ব্যাঙ্ক কৃর্তপক্ষকে লিখিত ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। তাই অরূপে এই দাবী ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিতে চাইছে না তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে।
